...|...|...

লাইফস্টাইল

চুল লম্বা ও ঘন করতে চালের পানি কতটা উপকারী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩৩
Shares
চুল লম্বা ও ঘন করতে চালের পানি কতটা উপকারী

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুলের যত্নে চালের পানির ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। কেউ চুলে টোনার হিসেবে, আবার কেউ সিরাম হিসেবে এটি ব্যবহার করছেন। অনেকের দাবি, নিয়মিত চালের পানি ব্যবহার করলে চুল দ্রুত লম্বা হয়, ঘনত্ব বাড়ে এবং চুল পড়া কমে। তবে এসব দাবির পক্ষে কতটা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে? হিন্দুস্থান টাইমস এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চালের পানিতে শ্বেতসার, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং অল্প পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। এসব উপাদান চুলের বাহ্যিক পরিচর্যায় কিছুটা উপকার করতে পারে। তবে চালের পানি ব্যবহার করলে চুল দ্রুত লম্বা হবে, নতুন চুল গজাবে কিংবা চুল পড়া বন্ধ হবে-এমন দাবির পক্ষে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

চালের পানি চুলের কী উপকার করে

চালের পানিতে ইনোসিটল নামের এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট থাকে। চুলের তন্তুর সুরক্ষা ও ক্ষতি কমানোর ক্ষেত্রে এই উপাদানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। পরীক্ষাগারে পরিচালিত কিছু গবেষণায় চুলের সুরক্ষায় ইনোসিটলের উপকারের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে মাথার ত্বকে চালের পানি ব্যবহার করে নতুন চুল গজানো বা চুলের ঘনত্ব বাড়ানোর বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো সীমিত।

চালের পানিতে থাকা শ্বেতসার চুলের ওপর সাময়িক আবরণ তৈরি করতে পারে। এর ফলে চুল তুলনামূলক মসৃণ দেখায়, কিছুটা ঘন মনে হয় এবং আঁচড়ানো সহজ হতে পারে। তবে এই পরিবর্তন চুলের বাহ্যিক সৌন্দর্যের সাথে সম্পর্কিত। এতে চুলের গোড়ার সংখ্যা বাড়ে না কিংবা চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির গতি বেড়ে যায়-এমন প্রমাণ নেই।

অতিরিক্ত ব্যবহারে বাড়তে পারে সমস্যা

চালের পানি চুলের যত্নে ব্যবহার করলেও পরিমাণ ও ব্যবহারের ধরন সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এতে থাকা শ্বেতসার ও অন্যান্য উপাদানের অবশিষ্টাংশ চুলে জমতে পারে। এতে চুল শক্ত, রুক্ষ, শুষ্ক কিংবা জটযুক্ত হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে কিছু ধরনের চুলে এ সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে।

ঘরে তৈরি গাঁজানো চালের পানি সঠিকভাবে প্রস্তুত ও সংরক্ষণ না করলেও ঝুঁকি রয়েছে। এতে জীবাণু জন্মাতে পারে, যা মাথার ত্বকে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। ব্যবহারের পর মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া দেখা দিলে তা ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।

চুল পড়া কমাতে করণীয়

চুল পাতলা হয়ে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত চুল পড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব, মানসিক চাপ এবং মাথার ত্বকের বিভিন্ন রোগ চুল পড়ার জন্য দায়ী হতে পারে।

এ কারণে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিলে শুধু চালের পানি বা অন্য কোনো ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। প্রথমে সমস্যার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা জরুরি। প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত।

কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে চুল পড়ার সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি সুষম খাবার খাওয়া, চুলের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, চালের পানি চুলকে সাময়িকভাবে মসৃণ ও সুন্দর দেখাতে সহায়তা করতে পারে। তবে চুল দ্রুত লম্বা করা, নতুন চুল গজানো কিংবা ঘনত্ব বাড়ানোর নিশ্চিত উপায় হিসেবে একে বিবেচনা করার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।