...|...|...

বিশ্ব

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে ট্রাম্পের শেষ দুই বছর কেমন হবে?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:০৩ | আপডেট: ৩ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:০৪
Shares
মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে ট্রাম্পের শেষ দুই বছর কেমন হবে?

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তার ওপর নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক সমীকরণ। মঙ্গলবারের নির্বাচনে ভোটাররা ঠিক করবেন, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা ফিরে পাবেন সংখ্যাগরিষ্ঠতা।

বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি আসন রয়েছে। দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ডেমোক্র্যাটদের মোট চারটি আসন বেশি পেতে হবে। জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখা গেলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

জনপ্রিয়তার হার কমে যাওয়ার মধ্যে এই নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ডেমোক্র্যাটরা একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা ও নির্বাহী কর্তৃত্ব বহাল থাকবে। ফলে বড় ধরনের আইন প্রণয়নে ডেমোক্র্যাটদের সামনে বাধা থাকবে।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা বিশ্লেষক, রাজনৈতিক কৌশলবিদ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, ২০২৭ সালে ঋণসীমা বৃদ্ধি ও সরকারি অর্থায়ন নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল অনুযায়ী ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি, কংগ্রেস ও অর্থনীতিতে যেসব প্রভাব পড়তে পারে, তা তুলে ধরা হলো।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়, সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ৫ থেকে ২০টি আসনের ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তারা কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ, সমন জারি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষমতা পাবে। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা কংগ্রেসের সমন অমান্য করতে পারেন। কারণ, ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন বিচার বিভাগ সেগুলো কার্যকর করতে কতটা উদ্যোগী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এ অবস্থায় শুল্ক, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকবে। সিনেটে রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের অধিকাংশ প্রস্তাব আটকে দিতে পারবেন। তবে স্বাস্থ্যসেবা, গর্ভপাতের অধিকার, আবাসন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে কিছু প্রতীকী বিল পাস করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। এসব বিল আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা অবশ্য কম।

ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ২১ থেকে ৪০ আসনে পৌঁছালে দলীয় নেতৃত্বের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন ও প্রগতিশীল সদস্যদের চাপের মুখে ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি জোরালো হতে পারে। শুল্ক ও ইরান যুদ্ধের মতো অজনপ্রিয় ইস্যুতে কিছু রিপাবলিকানও ট্রাম্পের অবস্থান থেকে সরে আসতে পারেন।

বড় ব্যবধানে জয় ডেমোক্র্যাটদের বাজেট ও ঋণসীমা নিয়ে আলোচনায় দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াবে। স্বাস্থ্যসেবা, গর্ভপাতের অধিকার ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিল পাসের উদ্যোগও নিতে পারবেন তারা। তবে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতার কারণে এসব উদ্যোগের বড় অংশ আটকে যেতে পারে।

সিনেটে ৫০-৫০ হলে কী হবে

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় এবং সিনেটে দুই দলের আসন সমান হলে রিপাবলিকানরাই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবেন। কারণ, সিনেটে সমান ভোট পড়লে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নির্ধারক ভোট দিতে পারবেন।

এ পরিস্থিতিতে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান এবং দলীয় অবস্থানের বাইরে যেতে আগ্রহী মধ্যপন্থী রিপাবলিকানদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাজেট ও ঋণসীমা নিয়ে আলোচনাও আরও অনিশ্চিত হবে। কয়েকজন সিনেটরই তখন কোনো চুক্তি এগিয়ে নেওয়া বা আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারেন।

ফলে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক ও আর্থিক অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তবে ভ্যান্সের নির্ধারক ভোটের কারণে ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তিরা সিনেটের অনুমোদন পেতে পারেন। শুল্ক, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতিতেও ট্রাম্পের কর্তৃত্ব মূলত বহাল থাকবে।

প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয়

দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়বে। বিশেষ করে বিচারক, মন্ত্রিসভার সদস্য ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগের অনুমোদন সিনেটের হাতে থাকায় এ ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা মাত্র দুই আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে কমিটি ও কক্ষের কার্যসূচি নিয়ন্ত্রণ করবেন। ট্রাম্পের বিচার বিভাগীয় মনোনীতদের আটকে দেওয়া এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের কোনো শূন্যপদ পূরণে বিলম্ব ঘটানোর চেষ্টা করতে পারেন তারা। তবে রিপাবলিকানরা নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরুর আগে নিয়োগ অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করতে পারেন।

এ অবস্থায়ও ট্রাম্পের ভেটো ও নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকবে। অধিকাংশ বিল পাসে সিনেটে ৬০ ভোট প্রয়োজন হওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের আইন প্রণয়নের পথে ফিলিবাস্টার বড় বাধা হয়ে থাকবে। এটি সিনেটের এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে সংখ্যালঘু দলের সদস্যরা কোনো বিলের ওপর ভোট গ্রহণ বিলম্বিত বা আটকে দিতে পারেন।

সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৪ থেকে ৬ আসনে পৌঁছালে দলীয় নেতৃত্বের ওপর ব্যক্তিগত সিনেটরদের প্রভাব কমবে। শুল্ক, তথ্যকেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার মতো বিষয়ে বিল পাসের সুযোগ বাড়বে। এসব বিল ট্রাম্প ভেটো দিলে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি বিচারক নিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়াও প্রায় স্থবির হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৮ বা তার বেশি আসনে পৌঁছালে তারা ফলাফলকে স্পষ্ট জনসমর্থন হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। সরকারি অর্থায়ন ও ঋণসীমা নিয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে আলোচনায় তাদের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়বে। প্রয়োজনীয় বিল পাসের জন্য পর্যাপ্ত ভোটও তাদের হাতে থাকবে।

তবে এত বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ফিলিবাস্টার অতিক্রম, প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল কিংবা অভিশংসন প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো পর্যাপ্ত ভোট তাদের হাতে থাকবে না। ফলে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ট্রাম্পের ক্ষমতা পুরোপুরি সীমিত করা ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন হবে।

দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকলে

প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের অনেক আসন ঝুঁকিতে থাকায় দুই কক্ষেই তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এমন ফল একেবারে অসম্ভব নয়।

এমনটি হলে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা দাবি করতে পারবেন, প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ দুই বছরের জন্য তারা নতুন করে জনসমর্থন পেয়েছেন। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধা কমবে। বিচারক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগের পথও সহজ হবে।

এ ছাড়া বাজেট নিয়ে বড় ধরনের সংকট, সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ঋণসীমা নিয়ে সংঘাতের ঝুঁকি কমতে পারে।

সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলেও ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা ও ভেটো দেওয়ার অধিকার বহাল থাকবে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তদন্ত, শুনানি, নিয়োগ অনুমোদন এবং বাজেট আলোচনায় তাঁর প্রশাসনকে বাড়তি রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্পের শেষ দুই বছর তুলনামূলক কম বাধার মুখে কাটতে পারে।