গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এক দিনে অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সোমবারের বিভিন্ন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। এ ছাড়া আগের দিন ইসরায়েলি হামলায় আহত আরও একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এসব হামলায় বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, গাজার চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে বন্দুক ও বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত হন। একই দিন মধ্য গাজার আল-মুসাদ্দার গ্রামে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান আরও একজন।
এদিকে উত্তর গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্যমতে, এতে হানি হামেদ কাহিল নামের এক ব্যক্তি নিহত হন এবং আহত হন আরও পাঁচজন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তিনটি পৃথক হামলায় ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি তারা।
অন্যদিকে, ওয়াফা জানিয়েছে, ইউসুফ আবু ইউনুস নামের আরও এক ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। রবিবার আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি পুলিশ পোস্টে ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সোমবার মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
এর আগে রবিবারের ওই হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এ ছাড়া সোমবার গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় একটি কমিউনিটি কিচেনের মিনিবাসে হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৯৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৭৪৮ জন আহত হয়েছেন। সামগ্রিকভাবে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭৪ হাজার ৬০৯ জনে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭২ জন।
এদিকে শীত আসার আগে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই গাজায় নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটল।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর তথ্য অনুযায়ী, গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ সোমবার ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। তাঁবু প্রবেশের অনুমতি এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনার জন্য তার এই সফর।
জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা গত ৯ অক্টোবর জানিয়েছে, গাজায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের আশ্রয় সহায়তা প্রয়োজন। পাশাপাশি অর্ধেক তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শীত ঘনিয়ে আসায় এতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


