যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা কর্মসূচি ‘আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট’ (এজিওএ) থেকে রুয়ান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাদ দিতে চান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশ দুটির জন্য এ সুবিধা বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা কংগ্রেসকে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, এজিওএর আওতায় যোগ্য আফ্রিকান দেশগুলো হাজার হাজার পণ্য কোনো শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে পারে। তবে বার্ষিক পর্যালোচনায় রুয়ান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু কর্মকাণ্ড কর্মসূচির শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রশাসন ইতিমধ্যে দেশ দুটিকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথে বাধা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে।
রুয়ান্ডার ক্ষেত্রে মানবাধিকার, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, আইনের শাসন ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে পূর্ব ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে সশস্ত্র বিদ্রোহে ভূমিকা রাখার অভিযোগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ, পূর্ব ডিআর কঙ্গোতে এম২৩ বিদ্রোহীদের হয়ে লড়াই করতে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছিল রুয়ান্ডা। পাশাপাশি তাদের অস্ত্র, সরঞ্জাম, রসদ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিষয়টিও সামনে এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আফ্রিকার অংশীদার দেশগুলো যেন এজিওএর যোগ্যতার শর্ত পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়, সে বিষয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যমন্ত্রী পার্কস টাউ। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন এমন কিছু নতুন বিষয় সামনে আনছে, যা ২০২৫ সালে শুরু হওয়া দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় ছিল না। কর্মসংস্থান রক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকার রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিও ব্রেন্ট বোজেল তৃতীয় বলেছেন, দেশটির নিজস্ব নীতির কারণেই এজিওএ কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত উদ্বেগগুলো দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার প্রত্যাখ্যান করায় এ পরিণতি হয়েছে।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে রুয়ান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এ ঘোষণা এল। এর আগে গত বছর হোয়াইট হাউসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসোর সঙ্গে বৈঠকে দেশটিতে শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছিলেন ট্রাম্প। একই সময়ে আফ্রিকানারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশের সুযোগও উন্মুক্ত করেন তিনি।


