ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি ও রাঙ্গিয়া এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে নারী ও শিশুসহ ২৭ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে আসাম পুলিশ। আটকদের কারোর কাছেই ভারতে বৈধভাবে অবস্থানের কোনো কাগজপত্র ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সংস্থা এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আটকদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ বা ফেরত পাঠানো হতে পারে।
গত বুধবার দুটি পৃথক অভিযানে এই দলটি আটক হয়। গুয়াহাটির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (বর্ডার) কুলেন্দ্র নাথ ডেকা জানান, একদল সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীর বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ প্রথমে গুয়াহাটির আসাম স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন চত্বর থেকে ১২ জনকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটকরা জম্মু তাওয়ি এক্সপ্রেসে ভ্রমণকারী আরেকটি দল সম্পর্কে তথ্য দেয়। এই তথ্যের ভিত্তিতে বর্ডার পুলিশ গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ এবং রেলওয়ে প্রটেকশন ফোর্সকে সতর্ক করে।
এরপর দ্বিতীয় দলটি ট্রেনটি রাঙ্গিয়া রেলওয়ে জংশন অতিক্রম করার পর আটক হয়। পরে তাদের বঙ্গাইগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে নামিয়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য আসাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৭ জন আটকের কারোর কাছেই ভারতে তাদের আইনি বৈধতা প্রমাণ করার মতো কোনো নথিপত্র ছিল না।
কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটকরা ঢাকা, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনা এবং ময়মনসিংহসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দা। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারী তাদের ভারতে প্রবেশে সহায়তা করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ডিপুটি কমিশনার কুলেন্দ্র নাথ ডেকা জানান, বর্ডার পুলিশ বহিষ্কারের আদেশ চেয়ে সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনারের কাছে আবেদন করেছে। আদেশ জারি হলেই আটকদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটকদের বেশিরভাগই কাজের সন্ধানে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, তাদের বেশিরভাগই চাকরির সন্ধানে ভারতে প্রবেশ করেছে। ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে এবং আরও তদন্ত চলবে। বর্তমানে এই দলটি কোন পরিস্থিতিতে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং আসামে তাদের যাতায়াতে কোনো ব্যক্তি বা চক্র সহায়তা করেছিল কি না, তা বের করার ওপরই তদন্তের মূল ফোকাস রাখা হয়েছে।


