চলমান তীব্র যুদ্ধের মধ্যেই আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে একটি ইরানি প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই প্রতিনিধিদলের মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং তাদের জরুরি বা অত্যাবশ্যকীয় স্টাফরা সশরীরে হাই-লেভেল উইক বা উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেছেন, আমাদের হোস্ট কান্ট্রি বা স্বাগতিক দেশের বাধ্যবাধকতা অনুসারে, ইরানি রেজিম বা সরকারের মূল প্রতিনিধিদলটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে যোগ দিতে পারবে।
মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, কেবল একটি ছোট বা সীমিত আকারের প্রতিনিধিদলকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে এবং আমাদের নীতি অনুযায়ী তারা কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও বিলাসবহুল পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবে।
প্রসঙ্গত, দুই দেশের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া বা যুদ্ধ অবসানে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার কোনো স্পষ্ট পথ এখনও তৈরি হয়নি। বৈশ্বিক সমুদ্রবাহিত জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিচালনা করা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীটি বিঘ্নিত হওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে ইরানের সাথে যুদ্ধের অবসান ঘনিয়ে আসছে। এমনকি ইয়েমেনে হুথি বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে বাবে এল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই যখন তুঙ্গে, তখনও তিনি সম্প্রতি দাবি করেছেন যে তার প্রশাসন তেহরানের কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি আলোচনা করেছে। হুথিরা ওই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে।


