ইরান একটি বহুমুখী (মাল্টিপোলার) বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন লেবাননের হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ইজেদ্দিন। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহর এই আইনপ্রণেতার দাবি, আক্রমণাত্মক সামরিক নীতি গ্রহণের সিদ্ধান্তের পর ইরান এখন বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
হাসান ইজেদ্দিন বলেন, “ইরান এখন আর শুধু নিজেদের রক্ষায় সীমাবদ্ধ নেই; তারা বিশ্বের সব মুক্তিকামী, নিপীড়িত ও মর্যাদাবান মানুষের—সরকার হোক বা সাধারণ জনগণ—সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইরান প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থানে চলে গেছে। এর অর্থ হলো, তারা এখন হুমকি তৈরি করা স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পরিকল্পিত আগ্রাসন বা অপরাধের জবাব দিতে সক্ষম।”
হাসান ইজেদ্দিন হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক শাখা ‘লয়্যালটি টু দ্য রেজিস্ট্যান্স ব্লক’-এর সদস্য।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর বিশ্লেষক ত্রিতা পারসিসহ কয়েকজন পর্যবেক্ষক আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, তেহরান তাদের দীর্ঘদিনের ‘কৌশলগত ধৈর্য’ নীতি থেকে সরে এসে আরও আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নীতি পরিবর্তনের পেছনে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা বর্তমান সংঘাতকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে এবং মনে করছে, অতীতে হামলার জবাবে তেহরানের সীমিত প্রতিক্রিয়া বা নীরবতা প্রতিপক্ষকে আরও উৎসাহিত করেছিল।


