...|...|...

জাতীয়

প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:০৮ | আপডেট: ৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:২৮
Shares
প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ করছে সরকার। একই সাথে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল সোমবার দেশে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ন ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও বসবাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা বিশ্ব বসতি দিবসের অন্যতম লক্ষ্য। ১৯৮৬ সাল থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অক্টোবরের প্রথম সোমবার দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ ধারণাকে সামনে রেখে এবারও বাংলাদেশে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাড়তে থাকা আবাসন চাহিদার বাস্তবতায় জাতিসংঘের এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সব মানুষের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।

তারেক রহমান বলেন, আবাসন, নগর পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সাথে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ নগর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, পরিবেশদূষণ, পর্যাপ্ত নাগরিক সেবার অভাব, আবাসন সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের স্থানান্তর নগরজীবনে নতুন নতুন সংকট তৈরি করছে।

এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বস্তিবাসীদের দীর্ঘদিনের আবাসনের মালিকানা অর্জনের সুযোগ তৈরি এবং সমন্বিত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার জন্য বাসস্থান’ বলতে শুধু একটি ঘর বা ভবনকে বোঝায় না। এর সাথে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবার নিশ্চয়তাও যুক্ত। এ লক্ষ্যেই দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এসব অঞ্চলে পরিকল্পিত ও সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। এসব পদক্ষেপ নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-১১ অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

টেকসই আবাসন ও নগরায়ন বাস্তবায়ন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, সামাজিক সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন, বস্তি উন্নয়ন, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শহর ও গ্রাম সব জায়গার মানুষ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা এবং সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।

পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে মানবিক, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।