...|...|...

জাতীয়

ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ, জানালেন মাহদী আমিন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৪৬
Shares
ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ, জানালেন মাহদী আমিন

ছবি: সংগৃহীত

চাকরিপ্রার্থীদের সাথে নিয়োগদাতাদের সরাসরি সংযোগ তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আগামী ডিসেম্বর থেকে দেশে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রথমে ঢাকায় এ কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে ঢাকা থেকে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে। পরে দেশের বিভাগ ও জেলাগুলোতে তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

তিনি জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে গত ছয় মাস ধরে সরকারি সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে চাকরির বাজারে নিয়োগদাতাদের চাহিদা এবং চাকরিপ্রার্থীদের যোগ্যতার মধ্যে সরাসরি সমন্বয় তৈরি করা হবে বলে জানান মাহদী আমিন। নতুন গ্র্যাজুয়েটদের পাশাপাশি প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা তরুণদেরও কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই ব্যবস্থায় চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জনবলের চাহিদার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এসব তথ্যের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে।

কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে দেশজুড়ে নিয়মিত ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। জেলা পর্যায়ে এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাহদী আমিন বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের প্রস্তুত করতে সিভি তৈরি, দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরির সাক্ষাৎকার মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যুক্ত করা হবে।

বিদেশে কর্মসংস্থানে আগ্রহী তরুণ-তরুণীরাও এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি। নিবন্ধনের পর তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হবে।

দেশের কলকারখানা ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, ৫ আগস্টের পর কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় যে সংখ্যা প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবে বন্ধ কারখানার সংখ্যা তার তুলনায় অনেক কম। কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমলেও নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে এবং নতুন কারখানাও চালু হচ্ছে। বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কত মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা জানানো হয়নি। মাহদী আমিন বলেন, ডিসেম্বরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ও রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ বিবেচনায় রেখে এ উদ্যোগের কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

তরুণদের জন্য বেকার ভাতার বিষয়েও প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি ভবিষ্যতে সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। আপাতত তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের অগ্রাধিকার।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।