হৃদয়ে কম্পন জাগানো এক কঠিন বাস্তবতার নাম জাহান্নাম। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি গুনাহ বা পাপ মানুষকে জাহান্নামের আগুনের দিকে ধাবিত করে বা জাহান্নামের শাস্তির কারণ হতে পারে। পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়ী মোহ আর পাপাচারের পরিণাম যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার সবচেয়ে করুণ চিত্র ফুটে ওঠে পরকালের এই আগুনের বর্ণনায়। মহান আল্লাহর অবাধ্যতার শেষ পরিণতি কতটা তীব্র ও নির্মম, তা অনুধাবন করলে যেকোনো মুমিনের অন্তর শিউরে উঠবে।
জাহান্নামের আগুনের লাকড়ি বা জ্বালানি কেমন হবে- এ সম্পর্কে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘কিন্তু যদি তোমরা এমনটি না করো আর নিঃসন্দেহে কখনোই তোমরা এটি করতে পারবে না, তাহলে ভয় করো সেই আগুনকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যা তৈরি রাখা হয়েছে সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য।’-(সূরা বাকারা, আয়াত, ২৪)
দুনিয়াতে যে আগুন দেখা যায় তা শুধু শরীরের বাহ্যিক অঙ্গ পুড়াতে পারে কিন্তু তা অভ্যন্তরীণ অঙ্গ পুড়াতে পারে না। আর জাহান্নামের আগুন এমন হবে যা জাহান্নামিদের শরীর পুড়ানোর সঙ্গেসঙ্গে তাদের হৃদপিণ্ডও পুড়িয়ে ছাই করে ফেলবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, এটি আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত অগ্নি, যা তাদের হৃদয়কে গ্রাস করে ফেলবে। (সূরা হুমাযা, আয়াত, ৬-৭)
পার্থিব জীবনের আগুন জ্বাল করা যায় না, উল্টো এই আগুন দিয়েই বিভিন্ন জিনিস বা বস্তু জ্বাল করা হয়। কিন্তু পরকালীন জীবনে যে আগুন দিয়ে কাফের-মুশরিক, বেইমান ও নাফরমানদের শাস্তি দেওয়া হবে, সে আগুন জ্বাল করা হবে।
এ ব্যাপারে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জাহান্নামের আগুন এক হাজার বছর জ্বালানোর পর তা লাল বর্ণ ধারণ করেছে। আবার এক হাজার বছর জ্বালানোর পর তা সাদা বর্ণ হয়েছে। তারপর এক হাজার বছর জ্বালানোর পর তা কালো বর্ণ হয়েছে। এখন তা গভীর অন্ধকার রাতের অন্ধকারের মতো কালো হয়ে গেছে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস,৪৩২০)
জাহান্নামের আগুনের শক্তি সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের এ আগুন (দুনিয়ার আগুন) জাহান্নামের আগুনের ৭০ ভাগের ১ ভাগ। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এ এক ভাগ দিয়ে শাস্তি দিলেই তো যথেষ্ট হতো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘জাহান্নামের আগুন তোমাদের আগুনের তুলনায় ৬৯ গুণ বেশি উত্তপ্ত।’-(মুসলিম, হাদিস, ২৪৮৩, বুখারি, হাদিস, ৩২৬৫)
পরকালের এই চিরন্তন সত্য ও জাহান্নামের অবর্ণনীয় শাস্তি কেবল ভয় দেখানোর জন্য নয়, বরং আমাদের গাফেলত বা অমনোযোগিতা থেকে জাগিয়ে তোলার এক করুণ আহ্বান। দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী মোহ, সাময়িক সুখ আর পাপাচারের রঙিন দুনিয়া একদিন নিভে যাবে, কিন্তু আমলনামার হিসাব থাকবে চিরস্থায়ী। তাই আসুন, অহংকার ও অবাধ্যতার পথ ছেড়ে মহান আল্লাহর রহমতের ছায়া তলে ফিরে আসি। কোরআন ও সুন্নাহর আলোয় জীবন গড়ে পরকালের এই ভয়াবহ আগুন থেকে নিজেদের রক্ষা করি—এটাই হোক আমাদের আজকের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।


