ইসলাম ধর্মে জুমার দিন ও জুমার নামাজ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। জুমার খুতবা ও ঈদের খুতবা অত্যন্ত মনোযোগের সাথে শ্রবণ করা ওয়াজিব। তবে নানা সচেতনতার অভাবে অনেক সময় মসজিদে খুতবা চলাকালীন মুসল্লিদের মধ্যে কথা বলা, গল্প করা কিংবা উচ্চস্বরে দরুদ ও তাকবির পড়ার প্রবণতা দেখা যায়। শরীয়তের দৃষ্টিতে খুতবা চলাকালীন এসব কাজের বিধান কীতা নিয়ে রয়েছে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা।
ইসলামি আইন ও হাদিসের তথ্য অনুযায়ী, খুতবা শুরু হওয়ার পর থেকে তা শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের কথা বলা, আওয়াজ করা বা দুনিয়াবি কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি খুতবার সময় অন্য কোনো নফল ইবাদত, জিকির, তাসবিহ-তাহলিল বা দরুদ শরিফ পাঠ করা থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক। খুতবার মূল উদ্দেশ্য হলো ইমামের বয়ান বা উপদেশ চুপচাপ শোনা এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়া।
খুতবা চলাকালে যে বিষয়গুলো নিষিদ্ধ
গল্প বা কথাবার্তা বলা: খুতবার সময় একে অপরের সাথে কথা বলা তো নিষিদ্ধ বটেই, এমনকি খাতার বা পাশের কাউকে চুপ করতে বলাও নিষেধ। হাদিসে এসেছে, কেউ কথা বলতে নিষেধ করার উদ্দেশ্যে অন্যকে চুপ করতে বললেও তার জুমার সওয়াব নষ্ট হয়ে যায় (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫১)।
উচ্চস্বরে দরুদ বা তাকবির পাঠ: অনেক সময় দেখা যায় খুতবার সময় কেউ কেউ উচ্চস্বরে দরুদ পড়েন বা ঈদের খুতবায় ইমামের সাথে সাথে উচ্চস্বরে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করেন। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, খুতবা চলাকালীন এসব আমলও করা যাবে না, কারণ এতে খুতবা শোনার মনোযোগ ব্যাহত হয় এবং অন্যদের খুতবা শুনতে বিঘ্ন ঘটে।
অন্যান্য কাজ: খুতবা শুরু হওয়ার পর কোনো ধরনের নফল নামাজ পড়া কিংবা অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া জায়েজ নয়।
হাদিসের আলোকে দলীল
হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.)-এর যুগে খুতবা চলাকালে একটি বিষয়ে সাহাবি হজরত উবাই ইবনে কাআব (রা.)-কে প্রশ্ন করার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ওই অনর্থক কথা বলার কারণে জুমার পূর্ণ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয় (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস: ১৮০৭)।
প্রখ্যাত তাবেয়ি হজরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও যুহরি (রহ.) এ বিষয়ে বলেন, ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নামাজ পড়া যাবে না এবং খুতবা শুরু হলে কোনো কথাই বলা যাবে না।
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, খুতবা চলাকালে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখে কেবল মনোযোগের সাথে খুতবা শোনা প্রতিটি মুসল্লির ওপর অপরিহার্য দায়িত্ব। তাই খুতবার পবিত্রতা ও এর হুকুম রক্ষায় মুসল্লিদের এ বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত।


