...|...|...

সারাদেশ

টুপটুপ রিসোর্টে আগুন

১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে শিক্ষিকা মুক্তার লাশ উদ্ধার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২০ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫২
Shares
১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে শিক্ষিকা মুক্তার লাশ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আগুন লাগার ১০ দিন পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে রিসোর্টটির ধ্বংসস্তূপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার করা লাশটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার হওয়া ১০ জনের লাশের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হলেও নিখোঁজ নাসরিন আক্তার মুক্তার নমুনার সাথে সেগুলোর কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এ কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে রিসোর্ট এলাকায় নতুন করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের লাশ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়। এ সময় স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার পাটুয়ারটেকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন তিনতলা টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। শুরুতে নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন ১১ জন। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। নিখোঁজদের মধ্যে ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা।

ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া নিহতদের মধ্যে ঢাকার শ্যামলী এলাকার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

এ ছাড়া ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার আরেক পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে ছিলেন মৌলিহা মেহজাবিন আলভী (১৯), লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামী (২৪)।

নাসরিন আক্তার মুক্তা আশুলিয়ার ‘স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলে’ শিক্ষকতা করতেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি দুই বান্ধবীর সাথে রিসোর্টটিতে অবস্থান করছিলেন। তার দুই বান্ধবী রিসোর্ট থেকে বের হতে পারলেও মুক্তা বের হতে পারেননি। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

অবশেষে অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হলো। এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।