জন্মদিন উদযাপনে কেক কাটা, উপহার দেওয়া কিংবা বিশেষ আয়োজনের প্রচলন রয়েছে। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মদিন পালন নিয়ে আলেমদের মধ্যে আপত্তি রয়েছে। তাদের মতে, জন্মদিন উদযাপন বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ। এ বিষয়ে রাসূল সা. বিজাতীয়দের অনুসরণ করতে নিরুৎসাহিত করেছেন।
এক হাদিসে রাসূল সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৩)
এ ছাড়া জন্মদিন উদযাপনকে কেন্দ্র করে অনেক সময় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও অপচয়ের ঘটনাও ঘটে। অথচ ইসলামে অপচয় ও অপব্যয় নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আহার করো ও পান করো। কিন্তু অপচয় করো না...।’ (সূরা আরাফ, আয়াত : ৩১)
তবে জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা বা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরিবর্তে কেউ কেউ গরিব, অসহায় ও এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ কিংবা দান-সদকা করেন। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, জন্মদিন উপলক্ষে দান-সদকা করার বিধান কী? ইসলামে এটি কতটা গ্রহণযোগ্য?
ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহ তায়ালার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়, দান-সদকা করা এবং দরিদ্র ও এতিমদের খাবার খাওয়ানো প্রশংসনীয় আমল। সন্তানের জন্ম এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকা মা-বাবার জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বড় নিয়ামত।
এই নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে কেউ যদি গরিব, মিসকিন বা এতিমদের খাবার দান করেন কিংবা সাধারণ নফল সদকা করেন, তাহলে তা সওয়াবের কাজ। তবে জন্মদিনকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট দিনেই দান-সদকাকে শরিয়তের বিশেষ ইবাদত বা আবশ্যকীয় আমল মনে করা যাবে না।
বরং আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের অংশ হিসেবে জন্মদিন ছাড়াও বছরের যেকোনো সময় দান-সদকা করা উত্তম।

