পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলায় চোরাচালানবিরোধী একটি তল্লাশি চৌকিতে গাড়িবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও দুই বছর বয়সী একটি শিশু রয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানায়, ডিআই খান-কোয়েটা সড়কের আমান মেলা পুলিশ চেকপয়েন্টকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি দিয়ে হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণে ছয়জন পুলিশ সদস্য ও দুজন কাস্টমস কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।
এ ঘটনায় পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, চোরাচালানবিরোধী তল্লাশি চৌকিতে হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের যোগসাজশের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে বলেও সূত্রের মন্তব্য।
হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতির দৃঢ় সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ সম্মুখসারিতে রয়েছে। এই যুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে অগণিত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে একই প্রদেশের কোহাট পুলিশ লাইন্সে জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় ২২ জন নিহত ও ১০৩ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। ওই ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় ডেরা ইসমাইল খানে নতুন এই হামলা হলো।
কোহাটের ওই হামলায় বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি পুরনো পুলিশ লাইন্সের গেটে ধাক্কা দেওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনেও আরেকটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে।


