রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের প্রজেক্টে হামলা, গোলাগুলি, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রায় ২ কোটি ৯৩ লাখ ২৪ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও মালামাল লুটের তথ্য মামলায় উল্লেখ করেছে পুলিশ। তবে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে আনুমানিক ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ওই প্রজেক্টে হামলার পর রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন প্রজেক্ট ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, প্রজেক্টের তৃতীয় তলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস স্টুডিও’তে হামলা চালিয়ে টিভি, এসি, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি দামী শুটিং ও কারিগরি সরঞ্জাম নষ্ট করা হয়। এতে স্টুডিওটির আনুমানিক ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রজেক্টের প্রধান ফটক, থাইগ্লাস ও কেঁচি গেট ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার এবং অফিসের কম্পিউটার, মনিটর, ফ্রিজ, টিভি ও আলমারি ভাঙচুর করে আরও প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, অফিসের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য রাখা ২৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ, বিভিন্ন আকারের প্রায় ২০০ ফুট তার যার মূল্য ৫৫ লাখ টাকা, ২৩ টন রড এবং এক ফ্ল্যাট মালিকের ৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটার নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
সব মিলিয়ে হামলায় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল লুট করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন মামুন (৩২), মো. আসলাম (২৪) ও মুন্না (২৯)। রবিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও শটগান থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে মামুন ও আসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ধারালো ছোরা উদ্ধার এবং ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের পাঁচটি ব্যবহৃত গুলির খোসা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় ধস্তাধস্তিতে আহত হওয়ায় তিনজনকেই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।
মামলায় শাহরিয়া মাহমুদ, মো. আবুল কাশেম, মো. বাবুল হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ সাহিনুজ্জামান, মো. মতিউর রহমান, মজিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, এমকে আজাদ, মামুন, আসলাম ও মুন্নাসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।



