সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রসূতিদের সিজারিয়ান অপারেশন করায় তুরস্কের পর্যটন নগরী আন্তালিয়ায় শতাধিক চিকিৎসক ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার আন্তালিয়া শহরভিত্তিক চিকিৎসকদের সংগঠন ‘আন্তালিয়া চেম্বার অব ফিজিশিয়ান্স’ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বহিষ্কারের পাশাপাশি অভিযুক্ত চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে। কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অনেককে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে।
তুরস্কে জন্মহার কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে ‘পরিবার দশক’ নামে ১০ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প গ্রহণ করে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় জরুরি স্বাস্থ্যগত কারণ ছাড়া প্রসূতিদের সিজারিয়ান অপারেশন নিষিদ্ধ করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা।
তুরস্ক অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা ওইসিডির সদস্য। তবে সংস্থাটির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের হার সবচেয়ে বেশি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া শিশুর প্রায় ৬১ দশমিক ৫ শতাংশই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয়।
আন্তালিয়া চেম্বার অব ফিজিশিয়ান্স জানিয়েছে, উচ্চ সিজারিয়ান হার নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা নেওয়া, সাময়িক বরখাস্ত এবং প্রসবপূর্ব প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে তুরস্কের চিকিৎসকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন ‘টার্কিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’-এর জ্যেষ্ঠ নেতা ডা. আয়েশে গুলতেকিনগিল সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, সমস্যাটি কেবল চিকিৎসকদের কারণে নয়, বরং পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার সাথে জড়িত।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম বিরগুনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যার সমাধান না করে শুধু চিকিৎসকদের শাস্তি দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
২০২৫ সালে সিজার অপারেশন নিয়ন্ত্রণে নিষেধাজ্ঞা জারির পর এই প্রথম এ অভিযোগে বড় পরিসরে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল তুরস্ক সরকার।


