...|...|...

বিশ্ব

দলের নাম ও প্রতীক ফিরে পেতে আইনি লড়াইয়ে মমতা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৪৫
Shares
দলের নাম ও প্রতীক ফিরে পেতে আইনি লড়াইয়ে মমতা

ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) নাম এবং দলীয় প্রতীক জব্দের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দলের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্র্যাকশন বা উপদলের মধ্যকার বিরোধের জেরে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

ইন্ডিয়া টুডের তথ্যমতে, এদিন নির্বাচন কমিশন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বা উপদলকে আলাদা নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করেছে। এর একদিন আগে কমিশন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যেখানে বিরোধের মূল নিষ্পত্তির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং এর সংরক্ষিত প্রতীক ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ রায়—উভয় পক্ষের নেতাই বলেছেন যে, নির্বাচন প্রতীক (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) আদেশ ১৯৬৮-এর বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বিষয়টির একটি বাস্তবসম্মত বা মূল নিরূপণ প্রয়োজন।

শীর্ষ আদালতে দায়ের করা নিজের রিট আবেদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিবাদী বা পার্টি রেসপন্ডেন্ট করেছেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক জব্দের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দলের পরিচয় হারিয়ে যাওয়ার বেদনা একজন মায়ের সন্তান হারানোর ব্যথার সমান এবং এটি দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি কালো দিন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে তিনি এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে মেনে নেবেন না এবং আইনি, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক উপায়ে দলের মূল পরিচয় ও ‘ফুল-ঘাস’ প্রতীক পুনরুদ্ধার করতে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য তার পক্ষকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক বরাদ্দ করেছিল পোল প্যানেল। অন্যদিকে অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী উপদলকে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর ভোটগ্রহণ ও গণনা হবে ৯ অক্টোবর। মূলত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় আসন থেকেই জয়লাভ করার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এবং এজেডিপি নেতা হুমায়ুন কবির নওদা ও রেজিনগর উভয় আসন থেকে জয়ী হয়ে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে এই উপনির্বাচনগুলোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এদিকে, গত মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর টিএমসি আইনসভা দলে যে বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল এবং যা পরবর্তীতে সংসদেও ছড়িয়ে পড়েছিল, তার রেশ ধরেই নির্বাচন কমিশনের এই আদেশ এসেছে। গত জুনে ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ক বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে মমতা শিবিরের মনোনীত প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচন করেন এবং স্পিকারের কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায় করেন। এর মাধ্যমেই দলটির ২৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম ভাঙন দেখা দেয়। এর পাঁচ দিন পর এই বিদ্রোহ সংসদেও পৌঁছে যায়, যেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন লোকসভা সংসদ সদস্য অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত এনসিপিআই-এ যোগ দেন এবং স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে একটি ‘পৃথক ব্লক’ হিসেবে সমর্থন জানান, যা দলটির সংসদীয় সারিতে ফাটলকে আরও গভীর করে তোলে।