পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার এবং পাঁচবারের তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বীরভূমে তার বাড়ির ঠিক পাশেই অবস্থিত দলের কার্যালয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা সুইসাইড নোট বা আত্মহত্যার নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, ৭৪ বছর বয়সী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এক পাতার ওই বাংলা নোটে দাবি করা হয়েছে, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় এবং রাজনীতিতে প্রবেশ করাটা তার ভুল ছিল বলে তিনি মনে করতেন। পাশাপাশি পরিবারের তরুণ সদস্যদের ভবিষ্যতে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
রামপুরহাট আসন থেকে টানা ২৫ বছর জয়ী হওয়া আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় নোটে লিখেছেন যে, তিনি কখনো দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং কোনো কাজের বিনিময়ে কখনো টাকা নেননি। এছাড়া দলে অন্যায়গুলো সবসময় মেনে নিতে না পারলেও তিনি সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন।
তারাপীঠ-রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (টিআরডিএ) প্রসঙ্গে তিনি লেখেন যে, এর টেন্ডার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, চেক ইস্যু, পরিকল্পনা অনুমোদন বা নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট প্রদানে তার কোনো হাত ছিল না। তাকে হেয় করার জন্য চক্রান্ত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে জড়িত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রামপুরহাট আসনটির প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। তবে চলতি বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন তিনি। এর আগে তিনি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে স্কুল শিক্ষা ও কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

