...|...|...

বিশ্ব

মমতার দল পেল নতুন নাম ও প্রতীক

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:০২
Shares
মমতার দল পেল নতুন নাম ও প্রতীক

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগৃহীত

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে নির্বাচন কমিশন দলটির দুই বিবদমান অংশকে আলাদা নাম ও নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করেছে। এর ফলে আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীগুলো নতুন পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। এই উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে গণনা হবে আগামী ৯ অক্টোবর।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন এই আদেশ জারি করে। অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন অংশকে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ পেয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক।

নির্বাচন কমিশনের শুক্রবারের আদেশ অনুযায়ী, এই দুই গ্রুপকেই পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় এবং ত্রিপুরা—এই তিন রাজ্যে স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ্য করা হবে।

দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে নির্বাচন কমিশন এর আগে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে মূল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নামটি এবং জোড়া ফুল স্থগিত বা ফ্রিজ করেছিল। কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরসহ আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে কোনো পক্ষই মূল দলের নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

এনডিটিভির তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে টিএমসি প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এবং ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে দেওয়ায় নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দেয়। অন্যদিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি-এর প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবির—যিনি নওদ থেকেও জয়ী হয়েছিলেন—তিনি পদত্যাগ করায় রেজিনগর আসনটি শূন্য হয়।

সর্বশেষ এই আদেশটি চলমান নির্বাচনে দাখিল করা মনোনয়নগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রেজিনগর, নন্দীগ্রাম এবং নগাঁওয়ের উপনির্বাচনে দুই পক্ষের অনুমোদিত প্রার্থীরা ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩৬ ধারার অধীনে সংবিধিবদ্ধ প্রয়োজনীয়তা পূরণ সাপেক্ষে তাদের নিজ নিজ নববরাদ্দকৃত দলের নাম এবং প্রতীকের অধীনে বিবেচিত হবেন। এই বরাদ্দটি অস্থায়ী এবং নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত আদেশ না আসা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

দলের সাংগঠনিক কর্তৃত্ব, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈধতা এবং পদাধিকারী বা অফিস- নিয়োগ নিয়ে করা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দাবিগুলোকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত। রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে যুক্ত গোষ্ঠীর সমর্থিত অরূপ রায়-নেতৃত্বাধীন অংশটি বিদ্যমান জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের যুক্তি ছিল এই কমিটিগুলোর মেয়াদ ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গেছে।

পক্ষান্তরে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশটি এই প্রক্রিয়ার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তাদের যুক্তি, প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর দাবি এবং পদাধিকারী নির্বাচন দলের সংবিধানের পরিপন্থী। সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের জমা দেওয়া বিবরণসহ তাদের উপস্থাপনায় বলা হয়েছে যে দলের সংবিধানে আনা সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও অন্যান্য সাংগঠনিক সংস্থার মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছিল। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী অংশটি ওই সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তুলেছে।

কমিশনের বৃহস্পতিবারের আদেশে বলা হয়েছে যে, স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্বকারী প্রকৃত গোষ্ঠী কোনটি তা নির্ধারণের জন্য ১৯৬৮ সালের নির্বাচন প্রতীক (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) আদেশের ১৫ অনুচ্ছেদের অধীনে একটি বাস্তবসম্মত নির্ধারণ প্রয়োজন। ওই সিদ্ধান্ত বিচারাধীন থাকা অবস্থায় উভয় পক্ষকেই পছন্দের তিনটি করে নাম ও মুক্ত প্রতীক জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।