...|...|...

বিশ্ব

বিদ্রোহীদের ছেড়ে ফের মমতার শিবিরে কাসেম সিদ্দিকী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২৪ | আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ২:২২
Shares
বিদ্রোহীদের ছেড়ে ফের মমতার শিবিরে কাসেম সিদ্দিকী

বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার কয়েক মাস পর ফের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফিরেছেন আমডাঙার বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকী। বিদ্রোহীদের সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি ‘ভুল পথে পরিচালিত’ হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন।

সোমবার বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে পাশে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কাসেম সিদ্দিকী বলেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও তার সঙ্গেই থাকবেন।

বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যাওয়ার প্রসঙ্গে কাসেম বলেন, তিনি মনে করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ওই শিবিরের নেত্রী হিসেবে রয়েছেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর বুঝতে পারেন, ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে মমতার কোনো যোগাযোগ নেই।

কাসেম বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম দিদি সেখানে আছেন। পরে দেখলাম, দিদি সেখানে নেই। কোথাও তার কোনো চিহ্ন নেই। মানুষ দিদির জন্য ভোট দিয়েছেন। আমডাঙায় আমি দিদির পোস্টার নিয়ে প্রচার করেছি। দিদি যেখানে, আমরাও সেখানে।’

তিনি জানান, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে তাদের মাত্র একটি বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তাদের নেত্রী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ওই পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তির মধ্যেই তাদের দিয়ে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল বলে দাবি করেন কাসেম।

পরে তারা বুঝতে পারেন, এটি আসলে আলাদা একটি গোষ্ঠী। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বিদ্রোহী শিবির ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

কুণাল ঘোষও অভিযোগ করেন, বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। যে কারণ দেখিয়ে তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

আমডাঙার বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকী ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা হিসেবে পরিচিত। তিনি ফুরফুরা শরিফের ‘বড় পির’ আবু বকর সিদ্দিকীর বংশধর। ২০২৪ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তার পরিচিতি তৈরি হয়।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আমডাঙা আসনে বিজেপির অরিন্দম দেকে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন কাসেম। এর আগে আমডাঙার প্রার্থী হিসেবে রফিকুর রহমানের পরিবর্তে কাসেম সিদ্দিকীকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কাসেম সিদ্দিকীর মমতার শিবিরে ফেরার দিনই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখা গেছে। সাবেক আমডাঙার বিধায়ক রফিকুর রহমান এদিন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

ফলে একদিকে কাসেমের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে রফিকুর রহমানের বিদ্রোহী শিবিরে বৈঠক দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।