...|...|...

বিশ্ব

জালিয়াতি কাণ্ডে তুরস্কে ৯ ইসরায়েলি আটক

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:০৯ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:১০
Shares
জালিয়াতি কাণ্ডে তুরস্কে ৯ ইসরায়েলি আটক

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বা ফরেক্স জালিয়াতি চক্রের তদন্তে তুরস্কে ২০১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন ইসরায়েলি নাগরিক রয়েছেন। অভিযানের শুরুতে ১৭৫ জনকে আটক করা হলেও পরে এ সংখ্যা বেড়ে ২০১-এ পৌঁছায়।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম তুর্কি টুডে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইস্তাম্বুলের প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের সমন্বয়ে দেশটির ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন (এমআইটি)-এর ইস্তাম্বুল আঞ্চলিক অধিদপ্তর ও ইস্তাম্বুল প্রাদেশিক পুলিশ যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করে। তদন্তে ২৪৮ জনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০১ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ জন বিদেশি নাগরিক। তারা ২০টি দেশের নাগরিক। বিদেশি আটকদের মধ্যে ১১ জন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া আজারবাইজান, সিরিয়া, জর্ডান, ইউক্রেন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মরক্কোর দুজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, ইরান, চীন, লেবানন, ফিলিস্তিন, মেক্সিকো, মিসর, মোজাম্বিক, আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের একজন করে নাগরিকও আটক হয়েছেন।

ইস্তাম্বুলের প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চক্রটি ইসরায়েলি নাগরিকদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। তারা বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যক্তিদের নিয়োগ করত। বিবৃতিতে এসব ব্যক্তিকে ‘ইসরায়েলি জালিয়াতি-ব্যারন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তারা নিজ নিজ দেশে কোম্পানি নিবন্ধন, গ্রাহক সংগ্রহ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও হিসাবরক্ষণসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করত। পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তু করা দেশগুলোর বাইরে ভুয়া বা ‘শেল’ কল সেন্টার স্থাপন করা হতো।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কনভার্সন এজেন্ট’ ও ‘রিটেনশন এজেন্ট’ পদে বহুভাষী কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতো। নিয়োগের পর তাদের এক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।

কর্মীদের সাংকেতিক নাম দেওয়া এবং কাল্পনিক ব্যক্তিগত পরিচয় ও জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করতে বলা হতো। সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের প্রভাবিত করতে এসব পরিচয়ে অক্সফোর্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক হওয়ার মিথ্যা দাবিও যুক্ত করা হতো।

নিয়োগের আগে প্রার্থীদের পলিগ্রাফ বা মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা দিতে হতো। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পরীক্ষা নেওয়া হতো। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে তাদের নিয়োগ দেওয়া হতো না।

এ ছাড়া কল সেন্টারের অফিসে কর্মীদের ফোন নিয়ে প্রবেশ এবং সেখানে হিব্রু ভাষায় কথা বলাও নিষিদ্ধ ছিল বলে জানিয়েছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ।