নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে উত্তর ইয়েমেনে জায়েদি শিয়া পুনর্জাগরণ আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল হুথিরা। হুথি পরিবারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই গোষ্ঠী ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে ছয় দফা যুদ্ধে জড়িয়ে ধীরে ধীরে শক্তিশালী স্থানীয় মিলিশিয়ায় পরিণত হয়।
২০১১ সালের আরব বসন্তে ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে হুথিরা সুযোগ নিয়ে আরও এলাকা দখল করে। একই সময়ে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বাড়ে। ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর ইয়েমেনে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি হলেও হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বাড়তেই থাকে।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েল ও লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে গোষ্ঠীটি। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েল পর্যন্ত পৌঁছেছে, আর সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামোও তাদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও বাব আল-মান্দেবের আশপাশে হুথিদের অগ্রগতি তাদের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা লোহিত সাগরের বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা
জাতিসংঘের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা কারিগরি সহায়তা ও নিজস্ব উৎপাদনের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ওমান সীমান্ত ও সমুদ্রপথে অস্ত্র চোরাচালানের তথ্যও পাওয়া গেছে।
ইরান হুথিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ইরান ও হিজবুল্লাহর সামরিক সহায়তা এবং হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বিশেষজ্ঞদের হুথিদের সঙ্গে কাজ করার তথ্য উঠে এসেছে। একই প্রতিবেদনে কুদস ফোর্সের জেনারেল আবদোলরেজা শাহলাইয়ের ইয়েমেনে অবস্থানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইআইএসএসের মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশীয়ভাবে অস্ত্র উৎপাদনে অগ্রগতি হলেও উন্নত প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে হুথিরা এখনও ইরানের ওপর নির্ভরশীল।
সামরিক কৌশলে অনুপ্রবেশ, ড্রোন হামলা, গোলাবর্ষণ এবং মাইন ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যাপক নিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের জনবলও বাড়িয়েছে হুথিরা। জাতিসংঘের হিসাবে ২০২৪ সালে তাদের যোদ্ধার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছায়।
সব মিলিয়ে, কয়েক দশক আগে উত্তর ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা একটি স্থানীয় মিলিশিয়া এখন ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সংগঠিত সামরিক কাঠামো ও কৌশলগত নৌপথে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে ইয়েমেনের সীমানা ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যেও হুথিদের প্রভাব তৈরি হয়েছে।


