চীনের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের আশঙ্কার মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তাইওয়ানকে দুটি এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার লকহিড মার্টিন-এর তৈরি এই যুদ্ধবিমানগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অনুমোদিত ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৬৬টি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান চুক্তির অংশ।
তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানোয় কয়েক মাস বিলম্বের পর অবশেষে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানগুলো তাইওয়ানে এসে পৌঁছাল।
আল জাজিরার তথ্যমতে, হাওয়াই ও গুয়ামের ওপর দিয়ে উড়ে এসে বিমানগুলো স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় অবতরণ করে। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাক্ষাতের ঠিক এক সপ্তাহ পর এই বিমানগুলো দ্বীপটিতে পৌঁছাল।
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত এই দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে বেইজিং। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির মুখে তাইওয়ান এই অস্ত্রগুলোর অপেক্ষায় ছিল। তাইওয়ানের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিং কু বলেছেন, অবশ্যই বছরের শেষ নাগাদ আমরা কেবল এই দুটি [এফ-১৬ভি] বিমানই হাতে পাব না।
এই যুদ্ধবিমানের আগমন এমন এক সময়ে ঘটল যখন তাইওয়ানকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাইপেতে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র আইনগতভাবে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার উপায় প্রদানে বাধ্য হলেও, দুই পক্ষের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
গত মে মাসে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে তিনি তাইওয়ানের জন্য নতুন ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ স্থগিত রেখেছেন, যদিও তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করেছিলেন।
তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে যে তাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এই ডেলিভারির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র বলেন, আমরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বন্ধ ও মিত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের অভিন্ন সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা এবং মূল্যবোধ এগিয়ে নেওয়া অব্যাহত রেখেছি—আর এর মধ্যে তাইওয়ানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে আধুনিকায়ন করা এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানগুলোতে চীনের বিমানবাহিনীর জে-২০ স্টিলথ ফাইটারসহ যেকোনো আধুনিক আকাশ হুমকি মোকাবিলায় উন্নত অ্যাভিওনিক্স, অস্ত্র এবং র্যাডার সিস্টেম রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন তাইওয়ানকে এফ-২২ বা এফ-৩৫-এর মতো তাদের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমানগুলো সরবরাহ করতে এখনো রাজি হয়নি।


