মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের জেরিন চা বাগানের চা শ্রমিকরা। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত একটি লজ্জাবতী বানরকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়ে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন তারা।
রবিবার ( ২৬ জুলাই) সকালে জেরিন চা বাগানে কাজে যাওয়ার পথে কয়েকজন চা শ্রমিক রাস্তার পাশে বানরটিকে পড়ে থাকতে দেখেন।
চা শ্রমিক খোকন মাদ্রাজি ও সাগর কাহার জানান, বানরটির শরীরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। প্রাণীটি রাস্তার পাশে কাতরাচ্ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণীটি গুরুতর আহত হয়।
শ্রমিকরা তখনই প্রাণীটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে আহত লজ্জাবতী বানরটিকে শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ অফিসে নিয়ে গিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তাজুল ইসলাম বলেন, সকালে আহত লজ্জাবতী বানরটিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাণীটির শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে গেছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা চলছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাণীটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে উপযুক্ত পরিবেশে অবমুক্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লজ্জাবতী বানর হলো নিক্টিসেবাস Nycticebus গণের অন্তর্ভুক্ত নিশাচর প্রাইমেট।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের আইইউসিএন -এর লাল তালিকা অনুযায়ী, এটি সংকটাপন্ন বা ‘বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত।
বিপন্ন প্রজাতির একটি প্রাণীকে বাঁচাতে চা শ্রমিকদের এই তৎপরতা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের মানবতা ও বন বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপে হয়তো প্রাণটি আবার জঙ্গলে ফিরতে পারবে। একইসাথে বাগান এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।


