জীবনের কঠিন মুহূর্তে মানুষকে সবচেয়ে বেশি কাবু করে পরিস্থিতি নয়, বরং সেই পরিস্থিতিতে পরিষ্কার করে ভাবতে না পারা। চাপ এলে মনজুড়ে জেঁকে বসে অতিচিন্তা, বিভ্রান্তি আর আবেগের তাড়না। তখন নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্য অনেককেই পরে আফসোস করতে হয়।
তবে ভরসার কথা হলো, চাপের মধ্যেও স্থির থাকা জন্মগত প্রতিভা নয়, এটি অনুশীলনে গড়ে তোলা যায়। নিজেকে স্থির রাখতে এই ছয়টি কৌশল আয়ত্ত করতে পারেন।
১. আগে শরীরকে শান্ত করুন: চাপের মুহূর্তে শরীর ছটফট করে, আর সেই তাড়ায় ভাবনার গতি থমকে যায়। তাই শুরুতে তিনটি গভীর শ্বাস নিন। ৪ গুনে শ্বাস নিন, ৪ গুনে ধরে রাখুন, তারপর ৬ গুনে ধীরে ছাড়ুন। শরীর শান্ত হলে ভাবনাও স্বচ্ছ হয়।
২. আসল সমস্যাটি চিহ্নিত করুন: চাপ মাথার ভেতর অনেক সময় কল্পিত সমস্যার জন্ম দেয়। নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘সমস্যাটা ঠিক কী?’ উত্তর যত নির্দিষ্ট হবে, বিভ্রান্তি তত কমবে। স্বচ্ছতাই বিভ্রান্তির সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক।
৩. যা নিয়ন্ত্রণে, শুধু তাতেই মন দিন: সবকিছু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা মানুষকে দিশেহারা করে ফেলে। নিজের হাতে যা আছে, শুধু সেটুকুতেই মনোযোগ দিন। যা আপনার হাতে নেই, তা ছেড়ে দিন। কোলাহল কমলে মনোযোগ বাড়ে।
৪. মাত্র এক ধাপ এগিয়ে ভাবুন: চাপে পড়লে মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে শুরু করে। এ অবস্থায় দশ ধাপ দূরের হিসাব না কষে জিজ্ঞেস করুন, ‘পরের ধাপটা কী?’ পরের ধাপ মাত্র একটাই।
৫. প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে থামুন: চাপ মানুষকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। তাই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘আমি কি আবেগে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছি, নাকি ভেবেচিন্তে সাড়া দিচ্ছি?’ প্রতিক্রিয়া আবেগতাড়িত, আর সাড়া দেওয়া নিয়ন্ত্রিত।
৬. সিদ্ধান্তের জন্য সময় বেঁধে দিন: চাপের মধ্যে অতিচিন্তা বেড়ে যায়। নিজেকে ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় দিন। সিদ্ধান্ত নিন, কাজে নামুন, প্রয়োজন হলে পরে শুধরে নিন। অতিচিন্তার চেয়ে কাজ অনেক বেশি ফলপ্রসূ।
মানুষের আবেগ যখন সবচেয়ে প্রবল, তখনই সবচেয়ে খারাপ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। চাপের মুহূর্তের সিদ্ধান্তগুলোতে পুরো জীবনের উত্তর খুঁজে বের করার প্রয়োজন নেই। বরং সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারা একটি দক্ষতা; যত অনুশীলন করা যায়, চাপের মুখে তত বেশি সঠিক সিদ্ধন্ত নেওয়ার দক্ষতা বাড়ে।


