গ্রাফিক ডিজাইনের জগতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে এআইভিত্তিক ছবি তৈরি ও সম্পাদনার নতুন টুল ‘গুগল পিকস’ (Google Pics)।
এর মাধ্যমে প্রচলিত জটিল ও সময়সাপেক্ষ গ্রাফিক ডিজাইন প্রক্রিয়াকে সহজ করে তুলতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।
টুলটি প্রথম উন্মোচিত হয়েছিল চলতি বছরের মে মাসে গুগলের আই/ও ডেভেলপার সম্মেলনে। তখন এটি প্রথমে স্বতন্ত্র ওয়েবসাইট হিসেবে গুগল এআই আলট্রা সাবস্ক্রাইবারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজি ভাষাভাষীদের মধ্যে চালু হয়েছিল। এরপর ধাপে ধাপে ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে এসে গুগল ওয়ার্কস্পেসের এন্টারপ্রাইজ গ্রাহক এবং গুগল এআই প্রো ও আলট্রা প্রিমিয়াম সাবস্ক্রাইবারদের জন্যও টুলটি উন্মুক্ত করা হয়েছে, বিশেষত বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বিজনেস প্লাস, এন্টারপ্রাইজ স্ট্যান্ডার্ড ও এন্টারপ্রাইজ প্লাস প্ল্যানের গ্রাহকদের জন্য। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রাক্কালে গুগল এআই প্রো ফর এডুকেশন ব্যবহারকারীদের জন্যও এটি চালু হয়েছে।
গুগল পিকস মূলত গুগলের ন্যানো ব্যানানা ইমেজ জেনারেশন মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, এবং এটি সরাসরি গুগল ওয়ার্কস্পেসের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। শুরুতে গুগল ডকস ও স্লাইডসের সাথে এটি সংযুক্ত করা হয়েছে, ফলে আলাদা কোনো ডিজাইন সফটওয়্যারে না গিয়ে সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় ভিজ্যুয়াল তৈরি করা যাবে।
টুলটির কার্যপ্রণালী মূলত প্রম্পটনির্ভর। ব্যবহারকারীরা প্রাকৃতিক ভাষায় নির্দেশনা দিলে সিস্টেম নিজে থেকেই ফলাফল তৈরি ও পরিমার্জন করে, টেমপ্লেট বা ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপের মাধ্যমে শুরু থেকে ডিজাইন তৈরি করার দরকার হয় না।
এতে ছবির নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করা ও পরিবর্তন, ছবির ভেতরের লেখা সংশোধন ও অনুবাদ, একসাথে একাধিক ব্যবহারকারীর মিলে কাজ করার সুবিধা এবং একই প্রম্পট থেকে একাধিক সংস্করণ তৈরির সুযোগও রয়েছে।
সম্পাদনার ক্ষেত্রে টুলটির একটি বিশেষ দিক তুলে ধরেছে কয়েকটি প্রতিবেদন। একটি নির্দিষ্ট অংশ বদলাতে পুরো প্রম্পট নতুন করে লেখার দরকার হয় না- বরং ব্যবহারকারী ছবির নির্দিষ্ট জায়গায় ক্লিক করে ইনলাইন কমেন্টের মাধ্যমে পরিবর্তনের অনুরোধ জানাতে পারেন, অনেকটা গুগল ডকসে মন্তব্য করার মতো।
এ ছাড়া ছবি ২কে বা ৪কে রেজল্যুশনে বড় করা এবং ব্যাচ আকারে একাধিক সম্পাদনা করার সুবিধাও রয়েছে।
বাজারে টুলটির অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে গুগল ক্যানভা ও অ্যাডোবি এক্সপ্রেসের সাথে পার্থক্য তুলে ধরেছে। ক্যানভায় শিল্পী ও ফটোগ্রাফাররা নিজেদের টেমপ্লেট প্রকাশ করে রয়্যালটি আয় করতে পারেন, যেখানে গুগল পিকস পুরোপুরি এআই-নির্ভর কনটেন্ট তৈরির ওপর গড়ে উঠেছে।
অন্যদিকে অ্যাডোবি এক্সপ্রেস ব্যবহারকারীদের মৌলিক কাজ তৈরির প্ল্যাটফর্ম দেয়, কিন্তু গুগল পিকস মূলত বর্ণনা দিয়ে তৈরি করানোর টুল, নিজে ডিজাইন করার নয়।
শিল্প-সংশ্লিষ্ট বিতর্কও রয়েছে এই লঞ্চ ঘিরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুলের পেছনের এআই মডেলটি শিল্পীদের কাজের ওপর প্রশিক্ষিত।
এই লঞ্চকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখলে বোঝা যায় কেন গুগল এতে বিনিয়োগ করছে। ডিজাইন সফটওয়্যার বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে ১৩৬০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২৪৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মূল চালিকাশক্তি এআই-নির্ভর সহজলভ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা।
নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে এই সুবিধা যুক্ত করার ফলে ব্যবহারকারীদের ক্যানভা বা অ্যাডোবি এক্সপ্রেসের মতো বহিরাগত সাবস্ক্রিপশন সেবায় খরচ করার প্রয়োজন কমবে, পাশাপাশি গুগল বিপুল পরিমাণ ব্যবহারকারী তথ্যও সংগ্রহ করতে পারবে, যা তাদের এআই মডেল ও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলবে।


