জার্মানিতে কোমল পানীয় বা মিষ্টি পানীয়ের ওপর নতুন করে ‘সুগার ট্যাক্স’ বা চিনি কর চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন জোট সরকার। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের অবসান ঘটল।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আনাদলু এজেন্সির বরাতে জার্মান সংবাদমাধ্যম আরএনডি-এর হাতে আসা একটি খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব কোমল পানীয়ের প্রতি ১০০ মিলিলিটারে অন্তত ৫ গ্রাম চিনি রয়েছে, সেগুলোর ওপর প্রতি লিটারে ২৬ সেন্ট কর ধার্য করা হবে। আর যেসব পানীয়তে চিনির পরিমাণ প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ৮ গ্রাম বা তার বেশি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই করের পরিমাণ বেড়ে প্রতি লিটারে ৩২ সেন্ট হবে। আগামী বুধবার মন্ত্রিপরিষদে এই পরিকল্পনাটি অনুমোদনের কথা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় বামপন্থি এসপিডি দলের অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবেইলের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বাজেটের জন্য রাজস্ব বাড়ানো এবং একই সাথে কোমল পানীয় প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে পণ্যে চিনির পরিমাণ কমিয়ে স্বাস্থ্যকর পণ্য তৈরিতে উৎসাহিত করা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই করের মাধ্যমে ২০২৭ সালে প্রায় ৬৯ কোটি ইউরো (৭৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার) এবং ২০২৮ সালে ৯২৫ মিলিয়ন ইউরো (১.০৪ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব অর্জিত হবে।
এর আগে, চলতি মাসের শুরুর দিকে চ্যান্সেলরি লার্স ক্লিংবেইলের প্রস্তাবটি আটকে দিয়েছিল বলে জানায় সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এআরডি। চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ তার রক্ষণশীল সিডিইউ দলের ভেতরের চাপের মুখে পড়েন, কারণ দলটির বেশ কয়েকজন রাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তা যুক্তি দিয়েছিলেন যে এই শুল্ক আরোপ এক ধরনের অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ এবং এর ফলে ভোক্তাদের ওপর অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা পরিমাণের তুলনায় জার্মান নাগরিকরা বর্তমানে অনেক বেশি চিনি গ্রহণ করেন। ডব্লিউএইচও-র পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ দেহের অধিকারী মানুষের দৈনিক চিনির গ্রহণ কোনোভাবেই ৫০ গ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয়, আর আদর্শ মাত্রা হলো দিনে ২৫ গ্রামের কম বা প্রায় ছয় চা চামচ। কিন্তু দেখা গেছে, জার্মানিতে পুরুষরা গড়ে প্রতিদিন ৭৮ গ্রাম এবং নারীরা ৬১ গ্রাম চিনি গ্রহণ করেন। অন্যান্য উৎস থেকে আসা চিনি যোগ করলে এই দৈনিক পরিমাণ ১০০ গ্রামে গিয়ে পৌঁছায়।


