দিল্লির ঐতিহ্যবাহী ও প্রতিবাদস্থল হিসেবে পরিচিত যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রবেশের দায়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র দুই শীর্ষ নেতাকে পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ প্রদর্শনের অনুমতি পুরোপুরি বাতিল করার ঠিক পরদিন—গত মঙ্গলবার সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন সিজেপির নেতাকর্মীরা। এই অভিযোগে দিল্লি পুলিশ দলটির তিন সদস্যের বিরুদ্ধে একটি মামলা বা এফআইআর দায়ের করে।
আটককৃতদের মধ্যে দলের দুই শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে একই ঘটনায় আটক দলের অপর সদস্য অজিঙ্ক্যা শিন্ডেকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিং সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, গভীর রাত পর্যন্ত আটক নেতাদের আইনজীবীদের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে রাত তিনটার দিকে একটি বেসরকারি ভ্যানে করে তাদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মুক্তির পর অজিঙ্ক্যা শিন্ডে গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা যন্তর মন্তরে গিয়ে ভারতের জাতীয় পতাকা উড়িয়েছিলাম এবং ‘ভারত মাতার জয়’ স্লোগান দিয়েছি। এই অপরাধে মোদী-শাহের স্বৈরাচারী সরকার সৌরভ ও আশুতোষকে কারাগারে পাঠিয়েছে। এই একনায়কসুলভ সরকারের পতন অনিবার্য।
এই গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে এখন দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানোও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি সাহস থাকে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন। পুলিশের আড়ালে কাপুরুষের মতো লুকিয়ে না থেকে সরাসরি জরুরি অবস্থা জারি করে দেশবাসীকে জানিয়ে দিন যে, এই দেশে ভিন্নমত প্রকাশের কোনো অধিকার আর অবশিষ্ট নেই।
এদিকে, সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারের এই ঘটনায় দেশটির শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিয়ে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ হতে পারে না। এর জন্য তরুণদের কারাগারে পাঠানো চরম কাপুরুষতার নিদর্শন।
অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মমতা ব্যানার্জী বলেন, আমাদের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে এই মুহূর্তে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ের শপথ নিতে হবে। একটি পুরো প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়ার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সাংবিধানিক অধিকার বিসর্জন দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।


