...|...|...

সারাদেশ

কালীগঙ্গায় নৌকাবাইচ দেখতে লক্ষাধিক মানুষের ঢল

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩০
Shares
কালীগঙ্গায় নৌকাবাইচ দেখতে লক্ষাধিক মানুষের ঢল

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির আবহে মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট নৌকাবাইচ। শনিবার (৩ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের হেঁইও ধ্বনি আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রতিযোগিতায় চার ক্যাটাগরিতে মোট ২২টি নৌকা অংশ নেয়।

নৌকাবাইচ দেখতে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কারও কাছে এটি শৈশবের স্মৃতি, আবার কারও কাছে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ। নদীর দুই তীরজুড়ে সকাল থেকেই তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচের উদ্বোধন করেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, খাদ্যমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নৌকাবাইচ গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা একটি ঐতিহ্য। এই লোকসংস্কৃতি লালন ও সংরক্ষণ করতে হবে। এ আয়োজন শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি মানুষের সাথে মানুষের, প্রজন্মের সাথে প্রজন্মের এবং অতীতের সাথে বর্তমানের এক আনন্দময় মিলনমেলা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত এবং মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নৌকাবাইচ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আ তা ম জহীর আলম খান লোদী, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, নৌকাবাইচ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য-সচিব ও জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতায় কুড়িগ্রামের রৌমারী, টাঙ্গাইলের নাগরপুর, পাবনার সাঁথিয়াসহ মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মোট ২২টি নৌকা অংশ নেয়। এর মধ্যে খেল্লা-গয়ইটা ১০টি, ঘাসি-ছিপা ৫টি, ছান্দি ৪টি এবং পানসি ৩টি নৌকা ছিল। প্রতিযোগিতার আকর্ষণ বাড়াতে ৭০ ও ৮০ হাত দীর্ঘ দুটি কলাগাছের ভেলাও অংশ নেয়।

দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি আফরোজা খানম রিতা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং অংশগ্রহণকারী সব প্রতিযোগীকে অভিনন্দন জানান। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

নৌকাবাইচকে ঘিরে দিনভর কালীগঙ্গা নদীর দুই পাড়ে ছিল মানুষের ঢল। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে।