...|...|...

সারাদেশ

ডাকাতির সময় নারীকে ধর্ষণচেষ্টা যুবদল নেতার, ব্যর্থ হয়ে পৈশাচিক নির্যাতন

নুর হোসেন মিয়া, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:৫৮ | আপডেট: ২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৩৭
Shares
ডাকাতির সময় নারীকে ধর্ষণচেষ্টা যুবদল নেতার, ব্যর্থ হয়ে পৈশাচিক নির্যাতন

হিংগুলী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহীন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় ডাকাতির সময় এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টাসহ শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে হিংগুলী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহীন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শাহীন (৩৫), তার বাবা হিংগুলী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছামসু মিয়া (৬০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জোরারগঞ্জ থানায় মামলাটি করা হয়। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার ২ নম্বর হিংগুলী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম আজমনগর এলাকার উত্তর গ্রামে ডাকাতির সময় তাকে আলাদা একটি কক্ষে নিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই রাতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তাকে সন্তানদের কাছ থেকে আলাদা করে একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তিনি তখন শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু অভিযুক্তদের একজন তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী নারী জানান, ঘটনার পরদিন তিনি জোরারগঞ্জ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে তার অভিযোগ, পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে তাকে দীর্ঘ সময় থানায় বসিয়ে রাখে। পরে দুই দিন পর তিনি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের ব্যক্তিগত সহকারীর সাথে যোগাযোগ করেন। তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী এমপির বাসায় গিয়ে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানান।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানার পর সংসদ সদস্য নুরুল আমিন তাকে আবার থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। একই সাথে বারৈয়ারহাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী ও হিংগুলী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন সোহাগকে ফোন করে বিষয়টি তদারকির নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী নারী আরও অভিযোগ করেন, ডাকাতির ঘটনায় জড়িতরা তার প্রতিবেশী। এর আগেও তারা এলাকায় ডাকাতি ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিল বলে দাবি করেন তিনি। সামাজিক কারণে অনেকে এসব ঘটনা প্রকাশ করেননি বলেও অভিযোগ তার। অভিযুক্তদের সাথে স্থানীয় পুলিশের সুসম্পর্ক থাকায় মামলা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি মামলার এজাহারের তথ্যও আসামিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির মুখে কালো মুখোশ ছিল। তবে পরনের পোশাক, হাতের ঘড়ি, শারীরিক গঠন ও মাথার চুল দেখে তিনি শাহীনকে শনাক্ত করেন। তার দাবি, ডাকাতির সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ১০ থেকে ১২ জন অংশ নিলেও শাহীন আগে থেকেই পরিচিত হওয়ায় তাকে চিনতে পারেন তিনি।

মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর চট্টগ্রাম সার্কেল এসপি মাসুদ কামালের কাছে যায়। পরে তার হস্তক্ষেপে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ভুক্তভোগী নারীকে থানায় ডেকে নেয়। এরপর শাহীন ও তার বাবা ছামসু মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ভুক্তভোগী নারীর সাথে প্রতিবেশী শামছুর জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনার পর ওই নারী সরাসরি থানায় না এসে কয়েক দিন পর সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের কাছে বিষয়টি জানান। পরে এমপির মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেয়।

বারৈয়ারহাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী বলেন, এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না। বিষয়টি সংসদ সদস্য নুরুল আমিন জানেন বলে তিনি জানান এবং তার সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ভুক্তভোগী নারী তার কাছে আসার পর তিনি তাকে জোরারগঞ্জ থানায় পাঠিয়েছেন। একই সাথে ওসিকে বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হিংগুলী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহীন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। গত ১৮ বছর ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত এবং সামনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ কারণে একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করেন তিনি। ভুক্তভোগী নারীকে নিয়েও অভিযোগ তুলে শাহীন বলেন, তার সাথে আওয়ামী লীগের যোগাযোগ রয়েছে এবং ঘটনাটি আওয়ামী লীগের একটি ষড়যন্ত্র।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতারের তথ্য পাওয়া যায়নি।