ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় শহর মারিবের উপকণ্ঠে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। জ্বালানি-সমৃদ্ধ শহরটি দখলের লক্ষ্যে ইরান-সমর্থিত হুথিরা হামলা জোরদার করার মধ্যেই এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার ‘আরব নিউজ’কে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সামরিক গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া আল-হাতেমি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মারিবের দক্ষিণাঞ্চলের হারেব, মালা’আ ও উম রাইশ এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে তুমুল লড়াই হয়েছে। সরকারি বাহিনীকে যুদ্ধবিমান ও ড্রোন সহায়তা দিয়েছে।
আল-হাতেমির দাবি, সরকারি বাহিনী হুথিদের হামলা প্রতিহত করেছে। এতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত এবং তাদের নয়টি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, নিহতদের অনেকেই পিছু হটে পালিয়ে গেছে।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মারিব প্রদেশের সম্মুখসারির বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান হামলাও চালানো হয়েছে। এসব হামলায় যোদ্ধাদের সমাবেশ, সামরিক শক্তিবৃদ্ধির চেষ্টা ও সুরক্ষিত অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
মারিবে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সবচেয়ে বড় সমাবেশ রয়েছে। গত এক দশকে সংঘাত ও হুথিদের দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা ২০ লাখের বেশি মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছে। শহরটিতে তেল-গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে।
মারিব দখলের লক্ষ্যে হুথিদের ধারাবাহিক অভিযানে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন। তবে কোনো অভিযানেই তারা শহরটি দখলে সফল হয়নি। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হুথিরা বড় ধরনের আক্রমণ স্থগিত করেছিল।
আল-হাতেমি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি বাহিনীর তীব্র হামলার মুখে মারিবের বাইরের বিভিন্ন অবস্থান থেকে হুথিদের পিছু হটতে হয়েছে।
এদিকে, শনিবার সানা, আমরান, হোদেইদাহসহ হুথি-নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫০ জন যোদ্ধার জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও ছিলেন বলে জানা গেছে।
আল-হাতেমির দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে প্রাণহানির কথা স্বীকার করেছে, তা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির ১০ শতাংশেরও কম। তার অনুমান, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছেন। তবে নিজেদের বাহিনীর মনোবল ধরে রাখতে হুথিরা প্রকৃত নিহতের সংখ্যা গোপন করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, তাইজ শহরের পশ্চিমে অবস্থিত নুমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। এর আগে আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় হুথিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ হয়।
লোহিত সাগরের তীরবর্তী পশ্চিম ইয়েমেনে, বিশেষ করে মোখা ও বাব আল-মানদাবসংলগ্ন এলাকায় সরকারি বাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রগতির পর হুথিরা পাল্টা হামলা শুরু করেছে। লাহজ প্রদেশের আল-মাদারিবা ওয়া আল-আরাহ এবং তাইজ প্রদেশের কৌশলগত অবস্থানগুলোতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে তারা।
রবিবার ইয়েমেন সরকারের নেশনস শিল্ড ফোর্সেস জানিয়েছে, আল-মাদারিবা ওয়া আল-আরাহ এলাকার কাহবুব পাহাড়ের কাছে হুথিদের একটি হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। এ সময় তাদের একটি ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় উপজাতীয় যোদ্ধাদের সহায়তায় জায়ান্টস ব্রিগেড ও নেশনস শিল্ড ফোর্সেস কাহবুব পাহাড়ে হুথিদের হামলা প্রতিহত করে আসছে। কৌশলগত এই পাহাড়টি দখলে নিতে পারলে হুথিরা বাব আল-মানদাবের ওপর নজরদারির সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কেন্দ্রস্থল দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনের দিকে সম্ভাব্য অভিযানের পথও তাদের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে।
এদিকে, ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নুজাইলি জানিয়েছেন, মধ্যাঞ্চলীয় আল-বায়দা প্রদেশে হুথি সদস্য ও তাদের সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনীর বিমানবাহিনী।


