...|...|...

বিশ্ব

ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জবাবে জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:২৫ | আপডেট: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৭
Shares
ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জবাবে জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর আল-আজরাক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গত দুই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দুবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করে। তবে জাহাজটি উভয় হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।

এরপর ওমান উপসাগর ও খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সেন্টকমের দাবি, এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন ১, এম/টি রিয়েস্কো ও এম/টি ডেরিয়া—এই পাঁচটি জাহাজে আঘাত হেনে সেগুলো অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। হামলার আগে জাহাজগুলোর নাবিক ও কর্মীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খারগ দ্বীপের কাছে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জাহাজের কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর জাস্কের কাছেও আরেকটি তেলবাহী জাহাজে হামলার কথা জানিয়েছে তারা।

এর জবাবে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে ‘তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে আগে মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩-এ চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান।

তবে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে জর্ডান।

এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। এসব জাহাজের কর্মীদের অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত করা হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, ইরান যখনই মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলা বা হামলার চেষ্টা করবে, তখন তাদের তেলবাহী ট্যাঙ্কার হারাতে হবে।

ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে এবং ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছায়।