মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে সরকারি অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখায় গ্রাহকদের সঞ্চয়ী ও অন্যান্য হিসাবের জমা দেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ এফডিআর করে দেওয়ার কথা বলে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিমাণ প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, শরিফুল ইসলাম সোহাগ নামের ওই কর্মকর্তা গ্রাহকদের সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা জমা নেওয়ার পর তা এফডিআর করে দেওয়ার কথা বলতেন। পরে ব্যাংকের টাকা জমার কাগজপত্রে ব্যবহৃত ভুয়া সিল ও টোকেন ব্যবহার করে জমার প্রমাণ তৈরি করে সংশ্লিষ্ট অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এফডিআরের কাগজপত্র বা অর্থ ফেরত না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে হিসাব যাচাই করতে গিয়ে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে বলে অভিযোগকারীরা জানান।
এর মধ্যে এক প্রবাসীর ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ওই কর্মকর্তা চেক বই ইস্যু করে উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা।
এ ঘটনায় কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কত-তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নথি, হিসাব ও লেনদেন যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে, ওই কর্মকর্তা কয়েক মাস আগে শ্যামলী-আদাবর এলাকায় ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন বলেও জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের জিএম জানান, এর সঙ্গে জড়িতদের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


