...|...|...

সারাদেশ

অনেক গণতান্ত্রিক দেশেও বাংলাদেশের মতো ধর্মীয় সম্প্রীতি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৩৯
Shares
অনেক গণতান্ত্রিক দেশেও বাংলাদেশের মতো ধর্মীয় সম্প্রীতি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থানকে দেশের অনন্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বের অনেক বড় গণতান্ত্রিক দেশেও দেখা যায় না। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সভাকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সব ধর্মের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। সিলেটের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে ও পরে তিনি মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় পরিদর্শন করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। সবাইকে সাথে নিয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সিলেট নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে মোট প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে সাড়ে ৫০০ কিলোমিটারের উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছে। বাকি সড়কগুলোর উন্নয়নের জন্যও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতাধীন সড়কগুলোর উন্নয়নকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরীর অবকাঠামো ও নাগরিক সেবা উন্নয়নে আরও কয়েকটি বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে ক্বিনব্রিজের পাশে সুরমা নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণ, হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা এবং নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় চেঙ্গেরখালের পানি শোধন করে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পূজামণ্ডপ বা মন্দির পরিচালনায় কোনো প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিনিধিদের সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বিপিএম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।

অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সিলেট নগরীর ৮৫টি দুর্গাপূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৩৪ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।