সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রাখতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, শুল্ক পরিশোধের পরও মাল্টা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘শুল্ক পরিশোধের পরও মাল্টা ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।’
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের অভিযানের পর বাজারে মাল্টার দাম অনেকটাই কমেছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, রমজান বা অন্য কোনো উপলক্ষকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সারা বছর তদারকি কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে আমদানি ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ফলের প্রকৃত শুল্কহার ১২১ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনার বিষয়ে কাজ চলছে। এর মাধ্যমে ফল সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া খেজুরের শুল্ক কমানোর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ব্যাংকঋণের সুদহার কমানোর বিষয়েও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে আলোচনা করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়।
রমজানের প্রস্তুতি ও ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ পাইপলাইনে রয়েছে। এসব পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।
রমজানসহ সারা বছর পণ্যের সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সভায় ব্যবসায়ী নেতারাও রমজানে পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য সরবরাহের আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। সভায় খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুস সালাম, সিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ূন মাহমুদ চৌধুরী ও আলী আহমদ, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সহসভাপতি এম এ সালাম, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার আবুল বাসার মো. শফিকুর রহমান এবং সাবেক পরিচালক এস এম আবু তাইয়বসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।



