বরিশালে মাদক সেবনের অভিযোগে আটকের পর থানা থেকে পালিয়ে গেছেন পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। তার নাম দেলোয়ার হোসেন (৩৮)। তাকে আটক করতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
দেলোয়ার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অভিযানে তিনি আটক হন।
অভিযানের সময় দেলোয়ারসহ চারজনকে আটক করা হয়। অন্য তিনজন হলেন বাগেরহাটের নোয়াপাড়া এলাকার নাহিদ হাসান (২৮), পাঁচগাঁও গ্রামের মিরাজুল ইসলাম (৩৪) ও ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০)। পরে এএসআই দেলোয়ারকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের ডোপ টেস্টে ইয়াবা সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ২০ দিন করে কারাদণ্ড দেন। এদিকে, এএসআই দেলোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তিনি থানা থেকে পালিয়ে যান।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এএসআই দেলোয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। থানা থেকে কীভাবে তিনি পালিয়ে গেলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বলেন, পাঁচগাঁও গ্রামের মিরাজুল ইসলামের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের আসর বসার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
তিনি জানান, অভিযানের সময় বাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে বাড়িটি তল্লাশি করে ইয়াবা সেবনের ফয়েল পেপার, লাইটারসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পালিয়ে যাওয়া এএসআই দেলোয়ার হোসেন খুলনা সদরের শেরেবাংলা রোড এলাকার মো. সাখাওয়াত হোসেন সিকদারের ছেলে।


