...|...|...

বিশ্ব

৯০ বছরের পুরোনো গাণিতিক সমস্যা, ৮৮ ঘণ্টায় সমাধানের দাবি ওপেনএআইয়ের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:২৪
Shares
৯০ বছরের পুরোনো গাণিতিক সমস্যা, ৮৮ ঘণ্টায় সমাধানের দাবি ওপেনএআইয়ের

ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৮৮ ঘণ্টায় প্রায় ৯০ বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা উচ্চতর গণিতের একটি জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল এবং প্রায় ১০ হাজার এআই এজেন্ট বা বটের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল এই কাজ সম্পন্ন করেছে। সমস্যাটি ‘নাভিয়ের-স্টোকস অস্তিত্ব ও মসৃণতা সমস্যা’র সঙ্গে সম্পর্কিত। তরল ও বায়বীয় পদার্থের প্রবাহ এবং টার্বুলেন্স বা বিশৃঙ্খল প্রবাহ বোঝার ক্ষেত্রে এই সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ।

ওপেনএআইয়ের দাবি অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর প্রায় ১০ হাজার এআই বটকে কাজে লাগানোর ৮৮ ঘণ্টা পর তারা সমস্যাটির একটি সমাধান খুঁজে পায়। প্রতিষ্ঠানটি এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে এই দাবির এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লে ম্যাথমেটিক্স ইনস্টিটিউটও সমাধানটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেনি। নাভিয়ের-স্টোকস সমস্যা ‘মিলেনিয়াম প্রাইজ’-এর অন্তর্ভুক্ত সাতটি জটিল গাণিতিক সমস্যার একটি। প্রতিটি সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার রয়েছে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের পাওয়া সমাধানটি পুরস্কারের শর্তে প্রয়োজনীয় চারটি দাবির মধ্যে দুটির সমাধান করেছে। তবে এই কাজের জন্য মিলেনিয়াম প্রাইজ দাবি করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

সমাধানটি খুঁজতে এআই বটগুলো প্রায় ৩০ লাখ বার্তা আদান-প্রদান করেছে এবং ১৩ হাজার কোটি আউটপুট টোকেন ব্যবহার করেছে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মূল্যহারের ভিত্তিতে হিসাব করলে এ ধরনের কাজের খরচ প্রায় ১ কোটি ডলার হতে পারত।

এদিকে ওপেনএআইয়ের দাবিকে ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক ট্রিস্টান বাকমাস্টার এবং ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের গণিতবিদ লেভেন্ট আলপোগে একই সমস্যা নিয়ে কাজ করছিলেন। তাঁদের কাজে ওপেনএআইয়ের কোডেক্স ব্যবহার করা হচ্ছিল।

বাকমাস্টারের দাবি, ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জানতে পারেন যে তাঁদের কাজের অগ্রগতির তথ্য ওপেনএআইয়ের কাছে পৌঁছেছিল। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের কাজের তথ্য ওপেনএআইয়ের কাছে পৌঁছানোর আগে প্রতিষ্ঠানটি নাভিয়ের-স্টোকস সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করেনি।

তবে ওপেনএআই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বাকমাস্টার ও আলপোগের কাজ জনসমক্ষে প্রকাশের আগে তারা ওই কাজের কোনো অংশ দেখেনি। তাদের নাভিয়ের-স্টোকস গবেষণায় কোনো ব্যবহারকারীর তথ্যও ব্যবহার করা হয়নি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওপেনএআই অবশ্য জানিয়েছে, সম্ভাবনা কম হলেও তাদের পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে পাওয়া পরিচয়বিহীন তথ্য মডেল উন্নয়নে সহায়তা করে থাকতে পারে—এ সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তাদের দাবি, ওপেনএআইয়ের প্রমাণ এবং বাকমাস্টার-আলপোগের কাজ একে অপরের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন।