...|...|...

বিশ্ব

দ্য ডিসেন্টের ফ্যাক্টচেক

একাধিক দেশের নেতার সাথে ট্রাম্পের ছবি কেন প্রায় একইরকম

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:৪৭
Shares
একাধিক দেশের নেতার সাথে ট্রাম্পের ছবি কেন প্রায় একইরকম

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছবিটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কিংবা কাটআউট দাবি করে নানা গুঞ্জন উঠলেও ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তথ্যের বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয়েছে যে ছবিটি সম্পূর্ণ আসল এবং বাস্তব।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানো বিশ্বনেতা ও তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই ছবি তোলা হয়। গত ৩ অক্টোবর তারেক রহমানের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ছবিটি প্রকাশ করা হয় এবং এর উৎস হিসেবে হোয়াইট হাউসের নাম উল্লেখ করা হয়।

যেভাবে ছড়ায় বিভ্রান্তি

ছবিটি প্রকাশের পর ‘ইনফো বাংলা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ও অরণ্য আবীর নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয় যে তারেক রহমান ট্রাম্পের কোনো ‘ফটো কাটআউটের’ পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ অনেকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে এর সত্যতা জানতে চান। অন্যদিকে মীর জাহান নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটিকে সম্পূর্ণ এআই-নির্মিত বলে দাবি করা হয় এবং এতদিন পর ছবি প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।

আন্তর্জাতিক নেতাদের ছবি ঘিরেও একই বিতর্ক

শুধু বাংলাদেশ নয়, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সাথে ছবি তোলা নিয়ে কসোভো, আলবেনিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, জর্জিয়া ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের ছবি ঘিরেও অনলাইনে নানা ব্যঙ্গ ও প্রশ্ন ওঠে। কসোভোর প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি, আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা, উত্তর মেসিডোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী হ্রিস্তিয়ান মিৎসকোস্কি এবং রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দাসের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, প্রতিটি ছবির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের দাঁড়ানোর ভঙ্গি, হাসি এবং ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে ধরার স্টাইল প্রায় হুবহু এক।

এই মিলগুলো দেখেই একপক্ষ দাবি করতে শুরু করে যে ট্রাম্পের নির্দিষ্ট একটি অবয়ব বা বডি পোজ বিভিন্ন নেতার ছবির সাথে এডিট করে বসানো হয়েছে। রোমানিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়কে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে জানাতে হয় যে তাদের প্রেসিডেন্টের সাথে ট্রাম্পের ওই ছবি খাঁটি এবং এআই দিয়ে তৈরি নয়।

একই ভঙ্গির পেছনের কারণ

কসোভোর ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ‘হিব্রিড ডট ইনফো’ এবং সংবাদমাধ্যম ‘কোহা’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধরনের সাদৃশ্য থাকার মূল কারণ হলো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রটোকল। হোয়াইট হাউসের আয়োজনে ট্রাম্প নির্দিষ্ট একটি স্থানে স্থির হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একে একে তার পাশে এসে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলেন। একই ব্যাকগ্রাউন্ড এবং একই ক্যামেরার কোণ বজায় থাকায় এবং বারবার একই ভঙ্গিতে পোজ দেওয়ায় ছবিগুলোতে এমন মিল দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের নিজস্ব অফিসিয়াল আলোকচিত্রী ছাড়া অন্য কারও ছবি তোলার অনুমতি ছিল না। পরবর্তীতে হোয়াইট হাউস থেকে ছবিগুলো প্রক্রিয়াকরণ করে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধি দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়। এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সময়ক্ষেপণের কারণেই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর বিভিন্ন দেশের নেতাদের ছবি প্রায় একই সময়ে জনসমক্ষে আসে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছবিগুলোতে ট্রাম্পের অবস্থান নিখুঁতভাবে একরকম নয়; বরং বাঁ হাতের অবস্থান ও হাসিতে সামান্য ভিন্নতা রয়েছে। একই অনুষ্ঠানের অন্য ছবিতে ট্রাম্পকে বিশ্বনেতাদের সাথে করমর্দন করতেও দেখা গেছে। হাইভ মডারেশন এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য এআই শনাক্তকরণ টুল দিয়ে পরীক্ষা করে বলকান দেশগুলোর নেতাদের আলোচিত ছবিগুলোতে কোনো কৃত্রিম কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বনেতাদের সাথে ট্রাম্পের একই ধরনের ভঙ্গিতে ছবি তোলার নজির এটিই প্রথম নয়। এর আগেও ২০১৯ সালে ট্রাম্পের আয়োজিত বিশ্বনেতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে অনুরূপ ভঙ্গিতে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছিল। মূলত প্রটোকল মেনে নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলার চিরাচরিত নিয়মের কারণেই ছবিগুলোতে এই সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।