ফেনীর বিকন মডেল কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দেখা দিয়েছে চরম ফল বিপর্যয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সাতজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ কলেজটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এমন চিত্র এবং শতভাগ অকৃতকার্যতার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে কলেজটিতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো আঙিনা বনলতা ও আগাছায় ঢেকে আছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় কলেজের পরিবেশ হয়ে পড়েছে অপরিচ্ছন্ন। এমনকি দরজার তালায়ও ধরেছে মরিচা। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই, এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশেরও যেন ছিটেফোঁটা নেই।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, শুধু নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান খুলে রাখার কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় ফেনীর সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার সুনামও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
তাদের দাবি, শিক্ষার নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের উচিত, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক উপস্থিতি ও পাঠদানের মান খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ এস এম মাসুম বিল্লাহ জানান, ফেল করা সাত শিক্ষার্থী তাদের কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থী নয়। দুই বছর ধরেই কলেজের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে। নতুন করে কলেজের কার্যক্রম সচল করার পরিকল্পনা করছেন তারা। কার্যক্রম বন্ধ থাকলে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় সাত শিক্ষার্থী অংশ নিল কিভাবে এমন প্রশ্ন করলে তিনি ফোনের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে।


