ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরসহ তিনটি দেশে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত নবদীপ সুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একাধিক পোস্টে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
নবদীপ সুরি জানিয়েছেন, পাঞ্জাবে বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) কাছে ভোটার আইডি ও আধার কার্ড জমা দেওয়ার পর প্রাথমিকভাবে তাকে জানানো হয়েছিল, সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু পরে তিনি বার্তা পান যে তার তথ্য ২০০৩ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলছে না। এরপর বিএলও তাকে ডেকে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য কিছু অনির্দিষ্ট নথি জমা দিতে বলেন। যেহেতু ২০০৩ সালে তিনি দেশের বাইরে কর্মরত ছিলেন, তাই প্রমাণ হিসেবে নিজের পাসপোর্ট জমা দেন তিনি।
এই অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক এই কূটনীতিক লিখেছেন, তিনটি দেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার পরও যদি তাকে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণে এমন জটিলতায় পড়তে হয়, তাহলে দেশের সাধারণ নাগরিকদের অবস্থা কী দাঁড়াবে- এই প্রশ্নই তুলে ধরেছেন তিনি।
এসআইআর তালিকায় পরিচিত বা প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের নাম বাদ পড়া কিংবা তথ্যে গরমিল থাকার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। সাধারণত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে এসব সমস্যার সমাধান করা হয়ে থাকে। এই কর্মসূচির আওতায় ২০০২ বা ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার প্রমাণের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন আধার কার্ড ব্যতীত মোট ১১টি নথিকে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে অনুমোদন দিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর সেই তালিকা সম্প্রসারিত করে আধার কার্ডকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সালের জুনে বিহারে সর্বপ্রথম এই এসআইআর কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল, যেখানে মৃত ব্যক্তিসহ ৬০ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। এরপর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে একই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়- যা নিয়ে তখনও যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
একজন সাবেক শীর্ষ কূটনীতিকের এমন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আসায় এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
সূত্র: এনডিটিভি


