...|...|...

বিনোদন

২ মাসে ৩ সিনেমায় ৯০০ কোটি আয়, সাফল্যের শীর্ষে মমিতা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৪৪
Shares
২ মাসে ৩ সিনেমায় ৯০০ কোটি আয়, সাফল্যের শীর্ষে মমিতা

আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তি পাওয়া তিনটি সিনেমা দিয়ে রীতিমতো বক্স অফিসে ঝড় তুলেছেন মমিতা বাইজু। মাত্র ২৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর সাম্প্রতিক তিন সিনেমার সম্মিলিত আয় ছাড়িয়েছে ৯০০ কোটি রুপি। এর মধ্যে একটি সিনেমা গড়েছে নতুন ইতিহাস, যা তাকে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার নতুন তুরুপের তাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তার জাদুকরী উপস্থিতিতেই যেন সিনেমা সুপারহিট তকমা পাচ্ছে। সাফল্যের এই ধারাবাহিকতার শুরুটা হয় গত ২৩ জুলাই এইচ বিনোদ পরিচালিত তামিল সিনেমা ‘জন নয়াগণ’ মুক্তির মধ্য দিয়ে। থালাপতি বিজয়ের ক্যারিয়ারের শেষ সিনেমা হিসেবে পরিচিত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির আগেই ইন্টারনেটে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী এটি ৩২০ কোটি রুপির বেশি ব্যবসা করেছে, যেখানে বিজয় ও পূজা হেগড়ের সাথে পর্দা ভাগ করেছেন মমিতা। এরপর ১৪ আগস্ট মুক্তি পায় ভেঙ্কি আতলুরির রোমান্টিক-ফ্যামিলি ড্রামা ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সনস’। এই সিনেমায় সুরিয়ার বিপরীতে মমিতার অসম বয়সের প্রেমের রসায়ন দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করায় বিশ্বব্যাপী এর আয় ২৫০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যায়।

তবে বক্স অফিসের সবচেয়ে বড় চমকটি আসে ঠিক এক সপ্তাহ পর। ২১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় গিরিশ এ. ডি. নির্মিত মালয়ালম সিনেমা ‘বেথলেহেম কুডুম্বা ইউনিট’। রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার এই সিনেমায় নিভিন পলির সাথে মমিতার জুটি এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে, বক্স অফিসে এটি প্রায় ৩৩০ কোটি রুপি আয় করে নেয়। এই বিপুল আয়ের ফলে এটি বর্তমানে মালয়ালম চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। মিষ্টি হাসি ও চঞ্চল স্বভাবের কারণে তাকে এখন পাশের বাড়ির সুন্দরী মেয়ে হিসেবেই দেখছেন মুগ্ধ দর্শকরা।

মমিতার জন্ম ২০০১ সালের ২২ জুন কেরালার কোট্টায়াম জেলার কিডাঙ্গুরে। চিকিৎসক বাবার পরিবারে মা ও বড় ভাই মিথুনকে নিয়ে তার বেড়ে ওঠা। কোচির স্যাক্রেড হার্ট কলেজে সাইকোলজিতে স্নাতক শুরু করলেও পাঠে অনিয়মিত হওয়ার কারণে তৃতীয় বর্ষে গিয়ে তিনি ছিটকে পড়েন। তবে অভিনয়ে তার অভিষেক হয়েছিল মাত্র ১৫ বছর বয়সেই, মালয়ালম সিনেমা ‘পাভাদা’-এ শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে। পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পার্শ্ব চরিত্রে কাজ করার পর ২০২২ সালে ‘খো খো’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি প্রথমবার নজর কাড়েন এবং কেরালা ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতে নেন।

তার ক্যারিয়ারের মূল মোড় ঘুরে যায় ২০২৪ সালে এসে। মাত্র নয় কোটি রুপি বাজেটের ‘প্রেমালু’ সিনেমায় প্রথমবার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বক্স অফিস থেকে ১৩৬ কোটি রুপি তুলে আনেন। একই বছর ‘রেবেল’ দিয়ে তামিল সিনেমায় তার অভিষেক ঘটে এবং গত বছরের অক্টোবরে মুক্তি পাওয়া মাত্র ৩০ কোটি রুপি বাজেটের ‘ড্যুড’ সিনেমাটিও ১১০ কোটি রুপির বেশি আয় করে। চলতি বছরের এপ্রিলে ধানুশের বিপরীতে ‘কারা’ সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হলেও, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে টানা তিন সফল সিনেমা দিয়ে মমিতা এখন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সোনালি সময় পার করছেন।