...|...|...

আইন ও আদালত

১৪ বোয়িং কেনার চুক্তি প্রকাশের দাবিতে সরকারের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:২৫
Shares
১৪ বোয়িং কেনার চুক্তি প্রকাশের দাবিতে সরকারের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার জন্য করা চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এমএমজি সারওয়ার পায়েল এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব, অর্থ সচিব এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নোটিশের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আইনি নোটিশে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উল্লেখ করে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি করেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, আর্থিক যৌক্তিকতা এবং জনস্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতিসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে নোটিশে।

এ ছাড়া বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের, বিশেষ করে এয়ারবাসের প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছিল কি না এবং ক্রয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তুলনামূলক মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে বোয়িং বিমান ক্রয়কে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সরকারের বা বিমানের কোনো আর্থিক দায় তৈরি হয়েছে কি না, সে বিষয়টিও স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন কোনো বিমান কেনা বা লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে তা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি করা হয়েছে।

আইনজীবীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই, আর্থিক বিশ্লেষণ এবং জনস্বার্থ মূল্যায়ন ছাড়া নতুন কোনো চুক্তি বা প্রতিশ্রুতিতে না যাওয়াই সমীচীন।

নোটিশে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতের যেকোনো বিমান ক্রয়প্রক্রিয়া পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে।

নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গ্রহণযোগ্য জবাব না পাওয়া গেলে সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদের আলোকে জনস্বার্থে এবং সরকারি অর্থের সুরক্ষার স্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করা হবে বলে আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।