সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ১০ নম্বর সায়দাবাদ ইউনিয়নে ১১ দলের লংমার্চকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। একইসাথে মামলা প্রত্যাহার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা শাহিনুর আলম, জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম এবং সদর উপজেলা আমির অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে জামায়াত নেতারা দাবি করেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ১১ দলের ঢাকা-রংপুর শান্তিপূর্ণ লংমার্চ চলাকালে সায়দাবাদ এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী উসকানিমূলক ও আপত্তিকর স্লোগান দেন। এর প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তারা জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে সায়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুস সবুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
নেতৃবৃন্দের দাবি, ওই ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা করা হয়। তবে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, জামায়াতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ানো হয়েছে।
জামায়াত নেতারা বলেন, ছাত্রদলের ইউনিয়ন সেক্রেটারি পারভেজ সরকার ফেসবুক লাইভে দাবি করেছেন, রাত ১১টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে জামায়াত নেতাকর্মীরা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে জামায়াত নেতাদের দাবি, এ ঘটনার সাথে তাদের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই।
তারা প্রশ্ন তোলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলে পুলিশ কেন কাউকে আটক বা গ্রেফতার করেনি এবং পুলিশ এ বিষয়ে কোনো পৃথক বক্তব্য দিয়েছে কি না। তাদের অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত তদন্ত ছাড়াই জামায়াত নেতাকর্মীদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে জামায়াত নেতারা আরও বলেন, ‘সাজানো’ ঘটনার ভিত্তিতে করা মামলাটি তাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারের পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মামলা রেকর্ডের ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় জবাবদিহির দাবি জানান।


