নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল
(এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম
বন্দরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকে সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পূর্ব
ঘোষণা অনুযায়ী সকাল আটটায় এই কর্মসূচি শুরু হয়, যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
নেতাকর্মীরা কর্মসূচি সফল
করতে মাঠে রয়েছেন। তবে কঠোর অবস্থানে আছে প্রশাসনও। কারা কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন, কারা
দেননি তা পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে সব বিভাগীয় প্রধানকে।
এনসিটি হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এটির অপারেশনাল কাজ বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দিতে সরকারের কোনো বাধা নেই- বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) হাইকোর্ট এমন রায় দিয়েছেন।
তবে এটি বিদেশিদের
দেয়ার প্রতিবাদে গত তিন মাস ধরে চলছে আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ধর্মঘটের ডাক
দেয়া হয়েছে। বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে সকল অপারেশনাল কাজ।
একই দাবিতে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি)
সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একইসাথে
দাফতরিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক দলের নেতারা। তাদের এই কর্মসূচির
প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছে স্কপ। তারা রবিবার চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা
মিছিল ও সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে শুক্রবার।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক
(প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল
(এনসিটি) নিয়ে উচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন। এটি অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি
করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অফিস চলাকালে মিছিল, মহড়া ও আন্দোলনে অংশ
নেয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এরপরও এনসিটি পরিচালনার
দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ এবং আদালতের রায়ের প্রতিবাদে
বিক্ষোভ করছেন বন্দরের শ্রমিক–কর্মচারীরা। আন্দোলনকারী নেতা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের
কর্মসূচি চলছে, চলবে। দেশ রক্ষার স্বার্থেই এমন কর্মসূচি দিয়েছি আমরা।’

