চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানিকৃত তিন কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইইনার গায়েবের ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. মোর্শেদ আলম (৩১) এবং মো. সাইদুর রহমান (৫১) নামে দুই জেটি সরকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বন্দর থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। বন্দরের পরিবহন পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আমদানিকারকের অজ্ঞাতসারে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আমদানিকৃত কাপড়ভর্তি কনটেইনার খালাস করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। কনটেইনারটি ১১ আগস্ট বন্দর থেকে বের করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
গ্রেফতার মোর্শেদ চট্টগ্রামের পটিয়া থানার জিরি ইউনিয়নের উত্তর কৈয়গ্রাম গ্রামের আলতাফ আলী মৌলভী বাড়ির মো. রফিকের ছেলে এবং সাইদুর পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব বানিয়ারি গ্রামের মো. সুলতান আহম্মেদের ছেলে। দুজনই চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার প্যারামাউন্ড ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের জেটি সরকার হিসেবে নিয়োজিত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বন্দর থানার ওসি আবদুর রহিম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কাপড়ভর্তি একটি কনটেইনার চুরির ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ মামলা দিয়েছে। মামলায় জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এখন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আদালতের অনুমতি পেলে আসামিদের রিমান্ডে এনে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে।
এর আগে সাভারের কালিয়াকৈরের রফতানিমুখি পোশোকশিল্প প্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের আমদানিকৃত ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স (কাপড়ের রোল) ভর্তি একটি ৪০ ফুট এফসিএল কনটেইনার (কনটেইনার নং- এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭) চট্টগ্রাম বন্দরে ভেতর থেকে গায়েব হয়ে যায়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বিরুলিয়া ছোট কালিয়াকৈর এলাকার গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেড কাপড়ভর্তি কনটেইনারটি আমদানি করে। গত ৩০ আগস্ট এসআরআস এসওয়াইএনডি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লিমিটেড নামের সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান কনটেইনারটি খালাসের জন্য অনুমতি নেয়। পরে সিসিটি ইয়ার্ডে অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের কাছে গেলে দেখা যায়, কনটেইনারটি সেখানে নেই।
সাইফ পাওয়ারটেক জানায়, গত ১১ আগস্ট কনটেইনারটি ডেলিভারির জন্য সিস্টেমে তালিকাভুক্ত করা হয়। নির্দিষ্ট তারিখে কনটেইনারটি গাড়িতে তোলার আগে কাগজপত্রে সিসিটি ও এনসিটি ইয়ার্ডের পরিবহন পরিদর্শক মো. এস্কান্দর ফারুকের যে স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে তা ছিল ভুয়া। পরে সিস্টেম চেক করে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চ বহিঃসহকারী নেয়ামূল হক সরকারের আইডি (১৪৫৩২) ব্যবহার করে গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে কনটেইনারটি সম্পর্কে সিস্টেমে ইনপুট দেন।


