...|...|...

সারাদেশ

বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে স্বাচিপ নেতা, খুমেকে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৬
Shares
বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে স্বাচিপ নেতা, খুমেকে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

খুলনা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পদে ডা. মোঃ জহিরুল হককে দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মবিরতিতে গেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের দোসর এবং জুলাই আন্দোলনের সময় বিরোধিতাকারী স্বাচিপের কেন্দ্রীয় নেতা ও আজীবন সদস্য এমন একজন চিকিৎসককে মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান করার আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি চলবে।

খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আমানুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ২৪ সেপ্টেম্বরের অফিস আদেশে বলা হয়, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এ বি এম সাইফুল আলম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাবেন। তার শেষ কর্মদিবসে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) ডা. মোঃ জহিরুল হকের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হলরুমে জরুরি বৈঠক শেষে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ডা. জহিরুল হককে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর স্বাচিপের কেন্দ্রীয় নেতা ও আজীবন সদস্য’ হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়।

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের আহ্বায়ক ডা. মোঃ মিরাজ হোসাইন অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে অযাচিত মন্তব্য ও আন্দোলনবিরোধী অবস্থানের অভিযোগ রয়েছে এমন একজনকে বিভাগীয় প্রধান করা উচিত নয়।

এছাড়া ডা. জহিরুল হকের একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। তাদের দাবি, ২০২২ সালে এফসিপিএস (মেডিসিন) সম্পন্ন করার পর অল্প সময়ের মধ্যে তাকে গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. জহিরুল হক বলেন, আমি ডানপন্থী লোক। স্বাচিপের লোকাল লিস্টে আমার নাম রয়েছে, তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কোথাও আমার নাম নেই। আমি কখনো স্বাচিপের সঙ্গে ছিলাম না। কলেজ কর্তৃপক্ষের অফিস আদেশের মাধ্যমে আমাকে মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এ পদে আমার একজন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন, যিনি দায়িত্বটি পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। তার ইন্ধনেই কিছু জুনিয়র চিকিৎসক কর্মবিরতিতে গেছেন বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও জানান, তার বক্তব্যের সমর্থনে কিছু নথিপত্র ও কাগজপত্র রয়েছে, যা তিনি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাবেন।

তবে ডা. জহিরুল হক হোয়াটসঅ্যাপে এসব নথিপত্র পাঠানোর কথা বলার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি তা পাঠাননি।

জরুরি বৈঠকে বক্তব্য দেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. শফিউল আলম ডেভিড, ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের আহ্বায়ক ডা. মোঃ মিরাজ হোসাইন, সদস্য সচিব ডা. এস এম কামরান হোসেন এবং ছাত্রদল নেতা মোঃ ইয়ারুল হুসাইন।

কর্মবিরতির প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। দুপুরে মেডিসিন বিভাগের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি দেখা যায়। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডেও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নির্ধারিত চেয়ার-টেবিল ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। সার্জারি ও অন্যান্য ওয়ার্ডেও কর্মবিরতির প্রভাব পড়ার কথা জানা গেছে।

এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ভোগান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত সংকটের সমাধান করে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে ইন্টার্নদের কর্মবিরতির মধ্যেও হাসপাতালের সরকারি চিকিৎসকরা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের আহ্বায়ক ডা. মোঃ মিরাজ হোসাইন বলেন, আমরা এই আদেশ প্রত্যাখ্যান করছি। অবিলম্বে আদেশ বাতিল করতে হবে। আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গুর এই সময়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে রোগীদের ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।