...|...|...

সারাদেশ

শিশুদের স্কুল ফিডিংয়ে ব্লেডের পর এবার মিলল সুই

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৯
Shares
শিশুদের স্কুল ফিডিংয়ে ব্লেডের পর এবার মিলল সুই

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ ও পুষ্টি নিশ্চিতে চালু হওয়া ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির খাবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা বনরুটিতে সুই ও ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পরপর দুটি ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের কেজুরিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বনরুটির ভেতর দুটি লম্বা সুই পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর দুই দিন আগে একই ইউনিয়নের টিপড়াছড়া চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বনরুটির ভেতর একটি ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ করে।

কেজুরিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রীতি শুক্ল বৈদ্য স্কুল থেকে পাওয়া বনরুটি বাড়িতে নিয়ে যায়। ছোট বোনের সাথে ভাগ করে খাওয়ার জন্য প্যাকেটটি খোলার পর রুটির মাঝ বরাবর দুটি সুই দেখতে পাওয়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

প্রীতির বাবা কার্তিক বৈদ্য বলেন, কয়েক দিন আগে পাশের টিপড়াছড়া বিদ্যালয়ে বনরুটিতে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগের ঘটনা জানার পর তিনি সন্তানদের রুটি পরীক্ষা করে খেতে বলেছিলেন। বৃহস্পতিবার মেয়ে বনরুটি নিয়ে বাড়িতে এলে তিনি প্যাকেট খুলে রুটির ভেতরে একটি পুরোনো ও একটি তুলনামূলক নতুন সুই দেখতে পান। তিনি বলেন, প্যাকেটটি না খুলে তার মেয়ে নিজে রুটি খেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য বৈশিষ্ট গোয়ালা ও প্রতিবেশীদের জানানো হয়। পরে ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় কয়েকজন বনরুটিটি বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ করেন।

স্থানীয় চা-শ্রমিক রবি বোনার্জি বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং প্যাকেট খোলার পর রুটির মধ্যে দুটি সুই দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানানো হয়।

শিক্ষার্থীর মা শোভা শুক্ল বৈদ্য বলেন, শিশুদের খাবারের মধ্যে সুই পাওয়ার ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। তার মেয়ে না দেখে সেটি খেয়ে ফেললে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।

রাজঘাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বৈশিষ্ট গোয়ালা বলেন, শি'শু'দের খাবারে এ ধরনের বস্তু পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের জানানো হয়েছে এবং ইউএনওকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

কেজুরিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুরেন্দ্র তাতী বলেন, বৃহস্পতিবার এক অভিভাবক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য বনরুটিটি বিদ্যালয়ে এনে দেখান। রুটির মাঝ বরাবর দুটি সুই ছিল বলে তারা জানান। পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমা রানী দেব ছুটিতে রয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেছেন।

এর আগে গত সোমবার একই ইউনিয়নের টিপড়াছড়া চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বনরুটির ভেতর ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ করে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমন।

অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুধন বুনার্জি।