শিশুদের মেধা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নিয়মিত দুধ ও ডিম খাওয়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানা। একই সঙ্গে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে খামারিদের উৎপাদন বাড়াতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১১টায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। অনুষ্ঠানে ৩ হাজার ৭০০ সুবিধাভোগী খামারির মধ্যে প্রাণী ও গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, শিশুদের মেধাশক্তি বিকাশে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ ও ডিমের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি পরিবারকে শিশুদের নিয়মিত এসব পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ খাত দেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়ে খামারিদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানজিলা ফেরদৌসী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. খোকন হোসেন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৌমিতা গুহ ইভা এবং সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক খামারি উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে নিবন্ধিত ৩ হাজার ৭০০ সুবিধাভোগী খামারির হাতে প্রকল্পের আওতায় প্রাণী ও গো-খাদ্য তুলে দেওয়া হয়।

