শরতের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আকাশে মেঘের আনাগোনা কমলেও দিনের রোদ এখনো বেশ তীব্র। কাজের প্রয়োজনে প্রতিদিনই বাইরে বের হতে হয়।
ফলে ধুলাবালি, রোদ ও দূষণের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে শরীরের যেসব অংশে, তার মধ্যে পা অন্যতম। অথচ মুখের ত্বক কিংবা চুলের যতটা যত্ন নেওয়া হয়, ব্যস্ততার কারণে পায়ের যত্ন অনেক সময়ই থেকে যায় অবহেলায়।
নিয়মিত পেডিকিউর করলে পায়ের ত্বক পরিষ্কার ও কোমল রাখা যায়। কিন্তু প্রতিদিন পার্লারে গিয়ে পেডিকিউর করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়।
তাই ঘরোয়া পরিচর্যাই হতে পারে সহজ সমাধান। অ্যারোমা ও রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কিছু সহজ যত্নের মাধ্যমে ঘরেই পায়ের ময়লা, শুষ্কতা ও রুক্ষভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ঘরে বসেই সহজে করুন পেডিকিউর ও ডিপ ক্লিনজিং
সারা সপ্তাহ পায়ের ক্লান্তি দূর করতে এবং গভীর পরিচ্ছন্নতার জন্য সপ্তাহে অন্তত ১ বা ২ দিন এই ঘরোয়া পেডিকিউরটি করতে পারেন
গরম পানিতে পা ভেজানো
প্রথমে পরিষ্কার পানি দিয়ে পা ধুয়ে নিন। এরপর একটি গামলায় হালকা গরম পানি নিয়ে তাতে আধা চা চামচ খাবার সোডা (বেকিং সোডা) অথবা ঘন চায়ের লিকার মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। এটি ত্বকের রন্ধ্র থেকে ময়লা বের করে আনবে এবং জীবাণুমুক্ত করবে।
প্যাকে কোমলতা
পা পানি থেকে তুলে শুকানোর পর দুধ, মসুর ডাল বাটা এবং তিলের পেস্ট মেখে আলতো হাতে ৩ মিনিট ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এতে পায়ের খসখসে ভাব দূর হবে। কাঠবাদাম বাটা ও ময়দা একসাথে মিশিয়ে পায়ে লাগালেও ত্বক মসৃণ ও সুন্দর হয়।
আঙুলের ফাঁকের যত্ন ও দুর্গন্ধ রোধ করা
স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া এবং ঘামের কারণে পায়ে ফাঙ্গাল ইনফেকশন (ছত্রাক সংক্রমণ) ও দুর্গন্ধ হওয়া খুব সাধারণ বিষয়। এটি রোধ করতে দিনে অন্তত একবার সাবান দিয়ে পায়ের আঙুলের ফাঁকা জায়গাগুলো খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে একদম শুকনো করে মুছে নিন।
অতিরিক্ত ঘাম ও দুর্গন্ধ দূর করতে বাইরে বের হওয়ার আগে পায়ের পাতায় ও আঙুলের চিপায় ফুট পাউডার ছিটিয়ে নিন।
এছাড়া আর্মন ডিওডরেন্ট বা অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। এটি অতিরিক্ত ঘাম শুষে নেবে এবং সারাদিন পা দুর্গন্ধমুক্ত রাখবে।
চালের গুঁড়া ও সবজির স্ক্রাব
সপ্তাহে একদিন চালের গুঁড়ার সাথে শসার রস, গাজরের রস ও মসুর ডাল বাটা একসাথে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি পায়ে ৫ মিনিট বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করলে ত্বকের মরা কোষ ঝরে যাবে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়বে।
পায়ের ছোপ ছোপ কালচে দাগ ও রোদে পোড়া ভাব দূর করতে সহপজ পদ্ধতিতে ঘরে বসেই ব্যবহার করতে পারেন ৩টি দারুণ কার্যকরী প্রাকৃতিক প্যাক।
লেবু ও লবণের প্যাক
২ টেবিল চামচ লবণ ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস, হাতের কাছে থাকা এই উপাদান দুটি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে পায়ে ম্যাসাজ করুন। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। লবণ প্রাকৃতিকভাবে স্ক্রাব করে এবং লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড কালচে দাগ দূর করে।
চন্দন, টমেটো, শসা ও লেবুর প্যাক
১ টেবিল চামচ চন্দনের গুঁড়া, ১ চা চামচ টমেটোর রস, ১ চা চামচ শসার রস ও ১ চা চামচ লেবুর রস। সবগুলো উপাদান এক সাথে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে পায়ে মেখে ১৫ মিনিট রাখুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে পায়ের রোদপোড়া ভাব দূর হবে।
দুধ ও কমলার খোসার ন্যাচারাল ব্লিচ প্যাক
শুকানো কমলার খোসার গুঁড়া ও কাঁচা দুধ। কমলার খোসা গুঁড়ার সাথে দুধ মিশিয়ে পাতলা পেস্ট বানান। পায়ে লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন শুকানো কমলার খোসার গুঁড়া ও কাঁচা দুধ কিন্তু এই সময়ে পায়ের যত্নে দারুণ কাজ করে কারণ দুধের ল্যাকটিক অ্যাসিড হলো প্রাকৃতিকভাবে ব্লিচিং উপাদান, যা ত্বকের পিগমেন্টেশন ও পোড়া দাগ দূর করে।
জুতার যত্ন
এ সময় আবহাওয়ায় বন্ধ চামড়ার জুতো এড়িয়ে চলাই ভালো। বায়ু চলাচলের সুযোগ থাকে এমন খোলা স্যান্ডেল খোলা স্যান্ডেল পরুন। ভেজা জুতো বা মোজা বেশিক্ষণ পরে থাকবেন না।
মোজার ব্যবহার
এই সময়ে পায়ে সুতির মোজা ব্যবহার করুন, যা সহজে ঘাম শুষে নেয় এবং সম্ভব হলে দিনে দুইবার মোজা বদলান।
রাতে ঘুমানোর আগে
রাতে ঘুমানোর আগে পা ভালোভাবে পরিষ্কার করে মুছে পেট্রোলিয়াম জেলি, গ্লিসারিন বা ফুট ক্রিম ম্যাসাজ করুন। এরপর একটি হালকা সুতির মোজা পরে ঘুমালে সকালে দেখবেন আপনার পা দুটি অত্যন্ত নরম ও কোমল হয়ে আছে।
ঘরোয়া নিয়ম মেনে নিয়মিত সামান্য পরিচর্যা করলেই যেকোনো আবহাওয়ায় আপনার পা থাকবে সুরক্ষিত ও সুন্দর।

