...|...|...

বিশ্ব

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সাথে নতুন করে আলোচনায় মালয়েশিয়া

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:১৮ | আপডেট: ৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৩২
Shares
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সাথে নতুন করে আলোচনায় মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, চলতি বছর দেশটিতে থাকা ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এবার আরও রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সাথে আলোচনা করবেন তিনি।

মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মিন অং হ্লাইংয়ের চলতি সপ্তাহের মালয়েশিয়া সফরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আলোচনায় থাকবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। মালয়েশিয়ায় আনুমানিক দুই লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন।

মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, মিয়ানমারের পাঁচ হাজারের বেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর একটি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে গত সপ্তাহে ১ হাজার ৪৭৬ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে সমন্বিত এ কর্মসূচিকে ‘স্বেচ্ছায় ও পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাবাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে কুয়ালালামপুর।

তবে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ জানিয়েছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারকে দেওয়া শর্তের মধ্যে রয়েছে তাদের নাগরিকদের গ্রহণ করতে হবে এবং দেশে ফেরার পর তাদের সাথে মানবিক আচরণের নিশ্চয়তা দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, জানুয়ারি থেকে যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, তারা সবাই নিজ সম্মতিতে মিয়ানমারে ফিরেছেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মিয়ানমার সরকার ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়াকে আশ্বাস দিয়েছেন। তার ভাষায়, রোহিঙ্গা ও অন্যান্য মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু করা সম্ভব নয়।

২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে। আনোয়ার জানান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামও মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

এদিকে, মালয়েশিয়ায় শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ব্যবস্থা নেই। ফলে রোহিঙ্গাসহ শরণার্থীরা কাজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি গ্রেফতার ও অভিবাসন-সংক্রান্ত আটকের ঝুঁকিতে থাকেন।

দেশটির শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার ভূমিকা নিয়েও পর্যালোচনা চলছে। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের সাথে আলোচনা করবে মালয়েশিয়া।